

জসিম সিদ্দিকী, কক্সবাজার: দেশব্যাপী চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে যখন জনজীবন হাঁসফাঁস করছে, তখন একটু স্বস্তি ও নির্মল প্রশান্তির খোঁজে পর্যটকদের ঢল নেমেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে।
সমুদ্রের অবিরাম গর্জন, শীতল বাতাস এবং প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে মুখর হয়ে উঠেছে সৈকতের সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্ট। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজারো পর্যটকের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে পুরো সৈকত এলাকা। চারদিকে বিরাজ করছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলের দিকে পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি। কেউ সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে মিশে উপভোগ করছেন আনন্দঘন মুহূর্ত, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে কাটাচ্ছেন অবসর সময়। বালুকাবেলায় শিশুদের খেলাধুলা, তরুণ-তরুণীদের ছবি তোলা ও আড্ডা, আর সমুদ্রস্নানে মেতে ওঠা মানুষের উচ্ছ্বাস সৈকতজুড়ে সৃষ্টি করেছে এক প্রাণবন্ত আবহ।
পর্যটকদের অনেকে জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসহনীয় গরম থেকে সাময়িক মুক্তি পেতেই তারা কক্সবাজারে ছুটে এসেছেন। সমুদ্রের স্নিগ্ধ পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাদের মনে এনে দিয়েছে স্বস্তি ও প্রশান্তি।
এদিকে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁসহ পর্যটননির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পর্যটন খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেও সমুদ্রের গর্জন, নীল জলরাশি আর পর্যটকদের উচ্ছ্বাসে নতুন রূপে সেজেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের এই জনপদ যেন হয়ে উঠেছে স্বস্তি, বিনোদন ও প্রশান্তির এক অনন্য ঠিকানা।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, আজকের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ৬০ শতাংশ। তিনি বলেন, তীব্র গরম থাকলেও সাগরের বাতাস ও পর্যটকদের ভিড় কক্সবাজারের পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

