

মোঃ মেহেদী হাসান, পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় চোর-ডাকাত সন্দেহে জনতার গণপিটুনিতে একজন নিহত এবং সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় একটি মিনি ট্রাকে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার (২ মার্চ, ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের চকপলাশী এলাকায় একটি মিনি ট্রাক (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন-১৯-৩৮৬৭) যোগে কয়েকজন ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে চলাচল করছিলেন। স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতা আটকদের মারধর করে এবং মিনি ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
খবর পেয়ে পুঠিয়া থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস-এর কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতদের উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুর্গাপুর থানার মাড়িয়া গ্রামের আকরামের ছেলে মোঃ শাহীন (৪৫) কে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতরা হলেন, রাজশাহীর পুঠিয়া থানার চকপলাশী গ্রামের মোঃ লালুর ছেলে মোঃ শামীম (৩৫), ঢাকার আশুলিয়া থানার জিরানী বাজার এলাকার মৃত সোনা মিয়ার ছেলে মোঃ শফিকুল (৪৫), রংপুরের মিঠাপুকুর থানার ইমাদপুর গ্রামের মোঃ জহুরুল ইসলামের ছেলে মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪০), রাজশাহীর দূর্গাপুর থানার মাড়িয়া গ্রামের আকরামের ছেলে মোঃ শাহীন (৪৫), ঢাকার ধামরাই থানার নানজেগুড়ি এলাকার মাহির ছেলে খারজাহান (৩৫), টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর থানার বামালের চর গ্রামের মোঃ সাত্তার শেখের ছেলে সেলিম শেখ (৩০), টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর থানার কুটিবয়রা গ্রামের একানদানি সরকারের ছেলে মামুন (৪২), জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার সোনিয়াপাড়া গ্রামের মোস্তফার ছেলে রুপচান (৩০)।
রাজশাহী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান জানান, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে তালা কাটার সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় দ্রুত একটি মামলা দায়ের করা হবে।

