

উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন সিরাজগঞ্জ-৩— রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা নিয়ে গঠিত এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে কৃষি উৎপাদন ও সম্ভাবনাময় শিল্পায়নের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিস্তীর্ণ চলনবিল-নির্ভর এই জনপদের মানুষের প্রত্যাশা, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে যাবে তাদের এলাকা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ভিপি আইনুল হক। নির্বাচনে তার বিজয়ের পর থেকেই তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরালোভাবে তুলছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ।
স্থানীয়দের মতে, কৃষিনির্ভর অর্থনীতির পাশাপাশি এই অঞ্চলে শিল্পায়নের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে এলাকাটি। তাদের বিশ্বাস, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভিপি আইনুল হকের মতো তৃণমূলমুখী নেতৃত্ব থাকলে এই অঞ্চলের সম্ভাবনাগুলো বাস্তবে রূপ নেওয়া সহজ হবে।
রাজনৈতিক জীবনে নব্বইয়ের দশকে টানা তিনবার ছাত্রনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ভিপি আইনুল হক। পরবর্তীতে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে তার প্রতি জনগণের আস্থার পুনঃপ্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় একাধিক নেতাকর্মী জানান, ভিপি আইনুল হক দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারুণ্যের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত তারেক রহমান তাকে মনোনয়ন দেওয়ার পর নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জন করেন তিনি। এখন উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান তারা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে হামলা, মামলা ও নানা দমন-পীড়নের মুখোমুখি হয়েছেন ভিপি আইনুল হক। তবুও তিনি সংগঠন ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের দাবি, তার এই ত্যাগ ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মূল্যায়ন হওয়া উচিত।
স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, উত্তরবঙ্গের অবহেলিত এই অঞ্চলকে পরিকল্পিত উন্নয়নের আওতায় আনতে কৃষি, মৎস্য ও শিল্প খাতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে ভিপি আইনুল হকের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা মনে করেন।
সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের জনগণের প্রত্যাশা, জনপ্রিয় এই নেতাকে মন্ত্রিপরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হলে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। তবে স্থানীয়দের এই দাবি ভবিষ্যতের রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে কতটা প্রতিফলিত হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

