

আবু হেনা সাকিল, রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার দ্বিতীয় শিফটে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে এক ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরীক্ষাকালীন সময়ে স্মার্টফোন ব্যবহার করে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে বাবার কাছে পাঠানোর সময় তাকে হাতেনাতে ধরা হয়।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র একাডেমি ভবনে কেন্দ্রের ১৪৫ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী প্রক্টর দপ্তর থেকে পুলিশের হাতে সোর্পদ করা হয়েছে।
অসদুপায় অবলম্বনকারী ওই ছাত্রের নাম শামস আজমাইন। বাবার নাম রাহিদুল ইসলাম। তার রোল নম্বর ৩১৩০৭৯৪১। তার বাসা নওগাঁ জেলায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘সি’ ইউনিটের দ্বিতীয় শিফটের ভর্তি পরীক্ষা বেলা ৩টায় শুরু হয়। পরীক্ষা চলাকালীন এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক এক শিক্ষক তার দিকে নজর দেন। এ সময় তিনি দেখতে পান ওই শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন ব্যবহার করে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলছেন। ছবি তুলে মেসেঞ্জারে পাঠান এবং উত্তর পাওয়ার আগে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
আটক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, সে তার বাবার কাছে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে মেসেঞ্জারে ছবি পাঠান সমাধান করার জন্য। তার বাবা একটি ঔষধ কোম্পানীতে চাকরি করেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুর রহমান বলেন, 'সকালের শিফটে একজন শিক্ষার্থী ডিভাইসসহ ধরা পড়েছে। যে এআই ব্যবহার করে প্রশ্ন সমাধান করার চেষ্টা করতেছিল। সেটা নিয়ে তদন্ত করতে করতে আবার খবর পায় দ্বিতীয় শিফটের একজন পরীক্ষার্থী ছবি তুলে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে সেটি পাঠিয়ে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করে। যেটি খুবই বাজে ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভঙ্গ করেছে। আমরা তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছি। এবং প্রতারণার জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা হবে। এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করবো। যাতে ভবিষ্যত পরীক্ষার্থীদের কাছে সেটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।
এছাড়া ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষার কেন্দ্রেও দুইজন পরীক্ষার হলে ডিভাইস ব্যবহারকালে ধরা পড়েছেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে একই ইউনিটের পরীক্ষায় আরেক পরীক্ষার্থীকে এআই ব্যবহার করে ফলাফল খোঁজার সময় আটক করে পরীক্ষা কক্ষে কর্মরত শিক্ষক।

