

মাজহারুল ইসলাম বিপু, লালমনিরহাট: জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, এই পানির আগ্রাসনে লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলার মানুষ আজ ক্ষতবিক্ষত। বর্ষাকাল শেষ হলেই আবার ধুধু বালুচরে পরিণত হয়। সেখানে হাঁটু-পানিও থাকে না। চীন সরকার বলেছে, আগামী ২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তারা তিস্তা নদীর মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে চায়।
তিনি বুধবার লালমনিহাট জেলা বিএনপির উদ্যোগে লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নে ৫শ বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণকাল প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, যখনই বন্যা আসে তখন আমরা চেষ্টা করি এ বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। এখন আমরা সরকারে নাই। আপনারা সব সময় দাবি করেন রিলিফ চাইনা তিস্তা নদীর বাঁধ চাই, আপনাদের কথা শুনে আমি আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলাম জাগো বাহে তিস্তা বাচাই। এই আন্দোলনে পাঁচটি জেলার লাখ লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিল। এই দাবি এমন ভাবে উচ্চারিত হয়েছিল দেশের সীমানার বাহিরে বিশ্বে নাড়া দিয়েছে। আপনারা জেনেছেন আমাদের বন্ধু প্রতিম দেশ চীন প্রতিনিধি বাংলাদেশে এসেছিলেন তাদেরকে আমি তিস্তার অববাহিকা দেখিয়েছি, তারা সরকারকে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তারা তিস্তা নদীতে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়। ইতিমধ্যেই সব নকশা করেছে, তারা সরকারকে ইস্টিমেট দিয়েছে। আমরা আশা করছি, আগামী ২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তারা কাজ শুরু করতে চায়। এই কাজটুকু যদি আমরা করতে পারি তাহলে এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ ও দুর্দশা লাঘব হয়ে যাবে। এতদিন ভারতের ইঙ্গিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের চিন্তা স্থগিত করেছিল বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার। ফলে তিস্তা অববাহিকার লাখ লাখ মানুষ দিনের পর দিন বন্যাসহ নানা দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, ২০০১ সালে আপনাদের ভোটে আমি নির্বাচিত হয়েছিলাম। সে সময় আমি তিস্তা নদীতে স্পার বাঁধ দিয়েছি, এই স্পার বাঁধের কারণে এখন এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছি। এই ১৬, ১৭টি বছর পার হয়ে গেল ফ্যাসিস্ট সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলেও লুটপার করেছে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন কখনো করে নাই। আমরা যদি ১৬, ১৭ বছর ধারাবাহিক ক্ষমতায় থাকতাম তাহলে তিস্তা নদীর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো। তারা লুটপাটকারী তারা গত বছরের ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়েছে। ডাকাতরা তো এলাকা থেকে পালিয়ে যায় ভালো মানুষতো পালায় না। তারা এদেশের মানুষকে জুলুম অত্যাচার গুম, খুন, হত্যা ধর্ষণ, লুটপাট করে পালিয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে ৫শ বন্যার্তদের মাঝে ৫ কেজি চাল, আলু ৫ কেজি, ডাল ও তেল বিতরণ করেন। ত্রাণ বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মমিনুল হক, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হোসেন, জেলা বিএনপি'র সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল হক পাটোয়ারী সাজু, জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি ফয়লার রহমান বুলু, রাজপুর ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি মাহবুবুর রহমান লিটন ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

