

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অব্যবস্থাপনা আর চিকিৎসক সংকট নিয়ে সাংবাদিকের পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অশালীন ভাষায় পোস্ট করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ। তার এই পোস্টকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরের ভূঞাপুর প্রতিনিধি সরকারি হাসপাতালের নানা সমস্যা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। পরে সেই পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি ওই সাংবাদিককে ‘বেয়াদব’, ‘ধান্দাবাজ’, ‘ভন্ড’ ও ‘ছোটলোকসহ বিভিন্ন অশালীন কথা উল্লেখ করেন। এই ঘটনায় ভূঞাপুর প্রেসক্লাবসহ সাংবাদিক সমাজ নিন্দা প্রকাশ করেছেন।
যুগান্তর প্রতিনিধি ফেসবুক পোস্টে ভূঞাপুর সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নজর না দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সভা ও মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকেন।
এর প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ তার ফেসবুক আইডিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেন, “বাংলাদেশ এর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা নামে একটা সাবজেক্ট আছে যেখান থেকে পড়াশোনা করে সাংবাদিক হওয়ার কথা। কিন্তু আফসোস!! এসব ব কলম লোকজন সাংবাদিক হয় এ দেশে। ওরা ঘোষণা দিয়ে গত ১০ মাস ধরে আমার পিছনে লেগে আছে। এদের দুঃসাহস চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আমরা চরের মানুষ নিজেদের মেধা, পরিশ্রম আর যোগ্যতা দিয়ে আজকের এ অবস্থানে এসেছি। ভূঞাপুর এর অর্থনীতির সবচেয়ে বড় অবদান আমাদের চরের মানুষের। এই বেয়াদব, ছোটলোকগুলো কিভাবে চরের মানুষকে নিয়ে মন্তব্য করার সাহস পায় আমার জানা নাই। চরের মানুষ হিসেবে আমি গর্বিত।
এসব ছোটলোক, বেয়াদবগুলো শুধু আমাকে না, চরের সকল মানুষকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছে। আমরা চরের মানুষ এদের মত ভণ্ডামি, শয়তানি আর ধান্দাবাজি করি না। বেয়াদবটা সম্ভবত এই গ্রুপেও আছে। আমি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করছি। আপনাদের আত্মসম্মান এ লাগলে পোস্টে গিয়ে ওদেরকে উচিৎ শিক্ষা দিবেন আশা করি।”
বাংলাদেশের সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, "প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির সর্বদা জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা কর্তব্য বলে বলা হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে- একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে সেবাগ্রহীতা নাগরিকদের সাথে সব সময় ভদ্র, শিষ্টাচারপূর্ণ ও মার্জিত আচরণ করতে হবে। অসদাচরণের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, নাগরিকদের সাথে কোনো ধরনের রুক্ষতা, দুর্ব্যবহার বা শিষ্টাচারহীন আচরণ করা আইনত "অসদাচরণ" হিসেবে গণ্য হয়। এমন প্রমাণিত হলে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত, পদাবনতি, এমনকি চাকরিচ্যুতির মতো শাস্তির বিধান রয়েছে।
হাসপাতালের নানা সমস্যা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় ক্ষিপ্ত হয়ে টিএইচও অশালীন ফেসবুক পোস্ট করেছেন যা সরকারি আইনের নিয়মের লঙ্ঘন।
ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রশ্ন তোলা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। এসব বিষয়ে কোনো সাংবাদিকের বক্তব্য বা তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত তথ্য-প্রমাণসহ তার জবাব দেওয়া। কিন্তু একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একজন সাংবাদিককে গালিগালাজ এবং সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। তার শাস্তির দাবী জানাই।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, বিষয়টি জানা নেই। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

