

শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ট্রলি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের আরেক আরোহীসহ ট্রলিচালক ও তার সহকারী আহত হয়েছেন।সোমবার (২০ জুলাই) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার গোগা-রুদ্রপুর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, বেনাপোল পোর্ট থানার দৌলতপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর ভান্ডারীর ছেলে মিদুল হাসান নাহিদ (২৫) এবং একই গ্রামের জমাত আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন উষা (২৭)। আহত হয়েছেন একই গ্রামের শাহজাহানের ছেলে রুবেল (৩০)। এছাড়া ট্রলিচালক আমিরুল ও তার সহকারী নিরব, উভয়ই শার্শা উপজেলার রুদ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফুটবল ম্যাচ দেখে ভোরে নাহিদ, উষা ও রুবেল একটি মোটরসাইকেলে করে রুদ্রপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে একটি ইটভাটার জন্য ইট আনতে যাওয়া ট্রলি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, উভয় যানবাহনের অতিরিক্ত গতি এবং নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে সংঘর্ষটি ঘটে। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই নাহিদ ও উষার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত রুবেলসহ ট্রলিচালক ও তার সহকারীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। খবর পেয়ে শার্শা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও ট্রলি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিনুল হক জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, গোগা-রুদ্রপুর সড়কে বেপরোয়া গতিতে ট্রলি ও মোটরসাইকেল চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

