

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল পৌর এলাকার গৃহবধূ নাজমা আলম (৫১) কে হাত বেঁধে গলায় রশি পেঁচিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে মসজিদের মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ হত্যান্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এর রহস্য উদঘাটন করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ মসজিদের মোয়াজ্জেমের স্বীকারোক্তি মোতাবেক আরো একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ীকেও গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মসজিদের মোয়াজ্জেম দেলদুয়ার উপজেলার মৃত মোতালেব সরকারের ছেলে মোশারফ হোসেন (৪২) ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকার (৪৫)। এসময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকান্ডের পর নিয়ে যাওয়া স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং ঘটনার আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এস.এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এস.এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সোর্সের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি। হত্যাকাণ্ডের সময় গলার স্বর্ণের চেইন ও হাতের বালা নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় হত্যাকারী মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোশারফ হোসেন নাজমা বেগমকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। পরে নাজমার হাতে ও গলায় থাকা স্বর্ণ নেয়ার চেষ্টা করলে নাজমা বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় মোশারফ হোসেন নাজমা বেগমকে হত্যা করে এবং সিসি ক্যামেরার প্রমাণ নষ্ট করতে সিসি ক্যামেরা ভেঙে পার্শ্ববর্তী পুকুরে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে মোশারফ স্বর্ণসহ হাতুড়ি ও সিসি ক্যামেরার ডিভিডি সাথে করে নিয়ে যায়। খুনি মোয়াজ্জেম হোসেন নিহতের স্বামী শফিউল আলমের সাথে ও একা একা ওই বাসায় যাতায়াত ছিল। মাঝে মধ্যে সুগারবিহীন চা খেতে যাইতেন মোয়াজ্জেম। মঙ্গলবার দুপুরে আসামিদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, রোববার দুপুরে পৌর শহরের শিবনাথ পাড়া এলাকার ডাক্তার শফিউল আলম শাহীনের স্ত্রী নাজমা আলম (৫১) এর হাত বাঁধা, গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ধারণা তাকে নিজ বাসাতেই হত্যা করা হয়েছে।

