

গাজী মমিন, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি: নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রেখে অধিক আয়ের খোঁজে দেড় বছর পূর্বে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে গিয়েছিলেন ফরিদগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী মো. সোহেল হোসেন (৩৫)। সেখানে গিয়ে শ্রমিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরাতে পারেন নি।
মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার জীবন প্রদীপ থেমে গেলো। প্রবাসী মো. সোহেল হোসেন ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার সৌদি আরব সময় বেলা ১১টার দিকে আল কাসিম এলাকায় সড়কে কাজ করার সময় দ্রুতগতির গাড়ীর চাপায় নিহত হয়। সোহেল চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দেরগাও গ্রামের মো. হোসেন মুন্সীর একমাত্র পুত্র সন্তান।
নিহত সোহেলের চাচা আনোয়ার হোসেন সজিব জানান, গাব্দেরগাও গ্রামের মুন্সী বাড়ির (সাও বাড়ি) মো. হোসেন মুন্সীর একমাত্র পুত্র সন্তান সোহেল ফরিদগঞ্জ বাজারে চা-স্টল ছিলো। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরাতে প্রায় দেড় বছর পূর্বে সে সৌদি আরবে শ্রমিক ভিসায় যায়। সেখানে সে শ্রমিক হিসেবে সড়কের কাজ করার সময়ে ৭ এপ্রিল মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। এক ছেলে দুই মেয়ের জনক সোহেল পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তার শোকে পরিবারের বইছে শোকের মাতম। বৃদ্ধ বাবা মা ও মরহুমের তিন সন্তান নিয়ে স্ত্রী দিশেহারা।
হাউমাউ করে কেঁদে বৃদ্ধ বাবা মো. হোসেন মুন্সী বলেন, ভেবেছিলাম ছেলে বিদেশে গিয়ে আমাদের দুবেলা দুমুঠো খাবার দেয়ার সাথে সাথে নিজের দারিদ্রতা ঘুচিয়ে সুখের মুখ দেখবে। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল। আমি সরকারের কাছে আমার একমাত্র ছেলের লাশ দেশে দেশে ফেরত আসে তার জন্য সহযোগিতা চাই।
এদিকে সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক সোহেল হোসেনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার লাশ দেশে নিয়ে আসতে সকল সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া।

