

গোবিন্দ মজুমদার, চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের চিতলমারীতে কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত হালদার বাড়ির এই ভবনটি। ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে এ বাড়িটি। উপজেলার খড়মখালী গ্রামে সমাজসেবক ষষ্টি চরণ হালদারের এই বাড়ি থেকে এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের রণকৌশল ও যুদ্ধের সব ধরণের প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হত। এখন সেই বাড়িটি কেবলই এক স্মৃতি।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একাত্তর সালে যখন যুদ্ধ শুরু হয় তখন এলাকায় বিভিন্ন গ্রামে কয়েকটি ক্যাম্প তৈরি করা হয়। এ সকল ক্যাম্পের স্থান হিসাবে উপজেলার শিবপুর গ্রামের নিশি ডাক্তারের বাড়ি, সন্তোষপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন, রায় গ্রামের হালদার বাড়ি ও খড়মখালী গ্রামের ষষ্টি চরণ হালদারের বাড়ি নির্ধারণ করা হয়। এসব স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ পরিচালনা করেন। পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীকে রুখতে তাঁরা প্রাণপণ লড়াই করেন। এ যুদ্ধে প্রধান ক্যাম্প হিসাবে খড়মখালী গ্রামের হালদার বাড়ির এই ভবনটি ব্যবহার করা হত। এখান থেকে সব নির্দেশনা ও যুদ্ধের বিষয়ে পরিকল্পনা দেওয়া হত।
এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের দেওয়া তথ্য মতে, ১৯৭১ সালের ২১ জুন চিতলমারীসহ আশপাশের এলাকায় পাকিস্থানি সেনা ও তাদের দোসরা মিলে জলপথ ও স্থলপথে আক্রমণ চালায়। এদিন অনেক নিরীহ লোককে তারা হত্যা করে ও হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ করে। ক্যাম্পের অদুরে খলিশাখালী গ্রামের একটি মাঠের পাটক্ষেত ও হোগলা পাতার মধ্যে সেদিন বিভিন্ন এলাকার লোকজন প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নেন। পাকিস্থানি বাহিনী এসকল লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে নির্বিচারে তাদের উপর গুলিবর্ষণ করে অনেক লোককে হত্যা করে। ওই স্থানটি এখন খলিশাখলী বধ্যভূমি হিসাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
প্রয়াত ষষ্টি চরণ হালদারের ছোট ছেলে কালিদাস হালদার জানান, একাত্তর সালে যুদ্ধের সময় তাদের দ্বিতল বাড়িটি মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প করার জন্য ছেড়ে দেন। শতবর্ষী বাড়িটি এখন জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চিহ্ন ধরে রাখতে ভবনটি মেরামত করা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম-আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু তালেব শেখ জানান, একাত্তর সালে যখন যুদ্ধ শুরু হয় তখন এলাকায় ৪-৫টি ক্যাম্প তৈরি করা হয়। এর মধ্যে খড়মখালী হালদার বাড়ির এই ক্যাম্পটি ছিল অন্যতম। এ ক্যাম্পটিতে মল্লিক শামছুল হক নেতৃত্ব দেন। এছাড়া ক্যাপ্টেন তাইজুল ইসলাম সন্তোষপুর ক্যাম্পের নেতৃত্বে ছিলেন। এলাকা হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত রাখতে এ ভবনটি থেকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হত।

