

সাইমুন ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কাঁচপুর ব্রিজের নিচে গড়ে ওঠা বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনায় পরে পুলিশ ও র্যাব যৌথ অভিযান পরিচালনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে জড়ানো দু’টি পক্ষই স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কাঁচপুরের বালু নামানোর ঘাটটির দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ান।
স্থানীয়রা বলেন, এই ঘাটের ইজারা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের ভ্রাতা রাসেল মাহমুদের নামে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএ এ ঘাটের ইজারা দেয়। তবে, ঘাটের দখল বুঝে পেতে গেলেই সেখানে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের অনুসারীদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয়। যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এসময় উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। তাদের মধ্যে জহিরুল হক (৪৭), নূর হোসেন (৪৫) ও নজরুলের (৩৭) নাম পাওয়া গেছে। তারা নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ সময় হামলার শিকার হন স্থানীয় এক সাংবাদিকও।
খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। সেখান থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধারসহ এক ব্যক্তিকে আটক করতে দেখা যায় বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রাসেল মাহমুদ বলেন, “আমরা বৈধভাবে ঘাটের ইজারা নিয়েছি। প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের সামনেই এমপি মান্নানের অনুসারীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, কাঁচপুর বালুর ঘাটের সর্দার আলমগীর জানান, তুষার ও রিপনের নেতৃত্বে রাসেল মাহমুদের অনুসারীরা স্থানীয় লোকজন ও শ্রমিকদের উপর হামলা চালিয়েছে। তাদের হাতে ধারালো অস্ত্রে সুসজ্জিত ছিল। এ ঘটনায় উভয়পক্ষই থানায় অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, কাঁচপুর ব্রীজের নীচে শীতলক্ষ্যা নদীর পারে বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা পরিস্থিতি শান্ত করেছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

