

প্লাস্টিক কারখানার রাসায়নিক আর কঠিন বর্জ্যে বিষাক্ত হয়ে পড়েছে রাজধানীর কাটাসুর খাল। পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি কারখানা। সরাসরি খালে ফেলা হয় এসব কারখানার বর্জ্য, এর ফলে খালটিতে প্রাণের অস্তিত্ব পড়েছে সংকটে। উদ্ধার উদ্যোগে পরিবেশ অধিদফতর আর উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) দেখাচ্ছে নানা অজুহাত।
বুড়িগঙ্গা থেকে বছিলা এলাকার দেড় কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে কাটাসুর খাল। পুরোনো দিনের স্মৃতি এখনও স্থানীয়দের মনে তরতাজা। তারা বলেন, ছোটবেলায় সবসময় খালে নৌকা চলতে দেখেছি। মোহাম্মদপুর থেকে বছিলা যাতায়াত করতাম। এখানে একসময় নৌকা চলত। এই পথ দিয়ে মাহমুদপুর থেকে মোহাম্মদপুর যাতায়াত করতাম। এখন তো কিছুই নেই, সব ময়লা দিয়া ভরাট হয়ে গেছে।
তবে খালটি এখন ধুঁকছে অস্তিত্ব সংকটে। পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে কারখানা। ভেতরে দেখা যায় মেশিনে প্লাস্টিক ভাঙা হচ্ছে। আরেকটি জায়গায় সেসব প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। সেখান থেকে রংযুক্ত রাসায়নিক ড্রেনের মাধ্যমে সরাসরি ফেলা হচ্ছে খালে।
কারখানা একজন শ্রমিক বলেন, মেশিনের গরম পানি ফেলানোর জায়গা নেই, সেজন্য ওখানে ফেলা হচ্ছে। এরমধ্যে কোনো কেমিক্যাল নেই।
কারখানার ফেলা কঠিন বর্জ্যে ভরাট হচ্ছে খাল। নষ্ট হচ্ছে মাটি। আর রাসায়নিকের কারণে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী বাঁচতে পারছে না। স্থানীয়দের আপত্তির পরও প্রকাশ্যে চলছে কারখানাটি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বারবার বলার পরও তিনি এখানেই কাজ করছেন, সরাচ্ছেন না। তারা বলেন, নানা ধরনের ময়লা এখানে এসে জমছে। আরেক জনের ভাষ্য, কেমিক্যালের তীব্র গন্ধে বাসায় থাকা যায় না। প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়ায়।
খালপাড়ে স্থাপিত প্লাস্টিক কারখানার পেছনে আছে প্রভাবশালীদের সমর্থন। তাই নেওয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা। শুধু অবৈধ দখল নয়, খালের গলার কাঁটা পাড় ঘেঁষে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্লাস্টিক ফ্যাক্টরিগুলো। এসব কারখানার বর্জ্য এবং দূষিত কেমিক্যালযুক্ত পানি খালের পানিকে দূষণ করছে, পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের প্রতি তৈরি করছে প্রচণ্ড ঝুঁকি।
খালটি দেখাশোনা করার দায়িত্ব ডিএনসিসির। প্লাস্টিক কারখানাগুলোর দখল-দূষণ সম্পর্কে জানতো না সংস্থাটি। তবে এখন কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ভাঙারির দোকানগুলো আশপাশে প্লাস্টিকের বোতল এনে জমা করে, পরে সেগুলো বস্তায় ভরে বিভিন্ন জায়গায় রিসাইকেলের জন্য বিক্রি করা হয়। বিষয়টি এখন জেনে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি নথিতে খালটির প্রস্থ ১০ থেকে ১৫ মিটার। তবে কোথাও কোথাও এর প্রস্থ নেমে এসেছে ৫-৬ মিটারে। খালের পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে সুউচ্চ ভবন। অবৈধ দখলমুক্ত না করে খনন করা হলে সুফল মিলবে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কাটাসুর খালটি মোহাম্মদী হাউজিং হয়ে রামচন্দ্রপুর খালে গিয়ে যুক্ত হয়েছে। এই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে খালটি দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের।

