

মো. নাসির উদ্দিন, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ চলছে ধীরগতি। এতে আসন্ন ঈদযাত্রায় টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের সাড়ে ১৩ কিলোমিটার যানজটের আশঙ্কা করছেন পরিবহন চালক ও যাত্রীরা। তবে পুলিশ বলছে, নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা করতে মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে ৬৫ কিলোমিটার পালাক্রমে ৮ শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক। ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত রাস্তার চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় এই অংশ নির্বিঘ্নেই যাতায়ত করতে পারছে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৪টি জেলার যাত্রী। কিন্তু এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সড়কের চার লেন প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় আসছে ঈদেও দুর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট্য সূত্র জানায়, সাসেক-২ প্রকল্প আওতায় ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে টেন্ডারের মাধ্যমে এ মহাসড়কের উন্নীতকরণের কাজ পায় আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড। পরবর্তীতে আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড ২০২২ সালের মার্চ মাসে মহাসড়কের উন্নীতকরণের নির্মাণ কাজ শুরু করে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পুনরায় তা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।
পুলিশের ব্যাপক প্রস্তুতির পরেও যানজটের আশঙ্কা করছেন এই সড়কে চলাচলকারী পরিবহন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। পরিবহন চালকরা বলছেন, ঈদ এলেই শুরু হয় তরিঘরি কাজ। আর মহাসড়কের চার লেনের কাজ শেষ হয়েছে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত চারলেনের কাজ করছে। গত ঈদে চারলেনের কিছুটা সুবিধা পেলেও সার্ভিস লেনের কাজ শেষ করতে পারেনি। তবে এবারও মহাসড়কের চার লেনের সুবিধা পেলেও পুরোপুরি সুবিধা পাবে না এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীরা। এখনো মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কাজ করা হচ্ছে।
পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যমুনা সেতুতে টোল আদায়ের সফটওয়ারে সমস্যার কারণে যদি টোল আদায় মাঝেমধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় এবং সেতুর উপর গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। এছাড়া প্রতি বছরই ঈদকে সামন রেখে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা সড়কে লক্করঝক্কর এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি বের করে। এসব গাড়ি হঠাৎ করেই মহাসড়কে বিকল হয়ে যায়। এতে উভয় পাশের গাড়ি থেমে পড়ে। এক পর্যায়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনা এবং গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় যানজট হয়।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ঈদ যাত্রায় সেতুর উপরে একাধিক গাড়ি বিকল হয়। এর ফলে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।
রাজধানী ঢাকার সাথে সড়ক পথে উত্তরবঙ্গের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম এই মহাসড়কটি। ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যানবাহনের ভিড়ে এই মহাসড়কে সৃষ্টি হয় যানজটের। প্রতি বছর ঈদে এ মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন, যা অন্যন্য সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হয়। এ কারণে প্রতিবছর ঈদে এ সড়কে যানবাহনের চাপে জটলা লাগে।
সরেজমিনে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, মহাসড়কের এলেঙ্গার পর থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ চলছে। এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের কাজ পুরো দমে চলছে। উত্তরবঙ্গগামী লেনে পুরোদমে চলছে কাজ। আগের তুলনায় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে।
শ্যামলী পরিবহনের চালক শওকত হোসেন বলেন, মহাসড়কে পুলিশের সঠিক তদারকি প্রয়োজন। এছাড়া এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত কাজ করছে। কাজ শেষ না হলে এবারও মহাসড়কে যানজটের আশঙ্কা করছি। প্রতিবছরই আমরা যানজটের কবলে পড়তে হয়। মহাসড়কে পুলিশ যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে যানজট কম হবে।
উত্তরবঙ্গের বাস চালক রাহাত খান বলেন, ঈদের সময় যানজট হবেই এটিই স্বাভাবিক। এখনো মহাসড়কের কাজ শেষ হয়নি। আবার এলেঙ্গার পর থেকে সিঙ্গেল লাইন। এরফলেও ঈদ যাত্রায় এবার ভোগান্তি হবে। তবে পুলিশ প্রশাসকের সব সময়ই সর্তক থাকতে হবে।
আরেক বাস চালক মো. আজগর আলী বলেন, প্রশাসনের কাছে দাবি ঈদযাত্রায় রাস্তায় সব সময়ই দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও চালকদেরও সর্তক সহকারে গাড়ি চালাতে হবে। গরুর ট্রাকের কারণেও এবার যানজট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে এ মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী বাস যাত্রী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মোমেন বলেন, মহাসড়কের কাজের কারণে যানজট বেশি হয়। পুরোপুরি কাজ শেষ হলে যানজট হতো না। তবে এবার ঈদ যাত্রায় যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে আবদুল মোনেম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১ বছর মেয়াদ বাড়ানোর হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আসন্ন ঈদ যাত্রায় মহাসড়কের দুই পাশেই চার লেনে যানবাহন চলাচলের জন্য উম্মুক্ত রাখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদযাত্রায় যমুনা সেতু দিয়ে সার্বক্ষণিক টোল চালু রাখার চেষ্টা করা হবে। এবার সেতুর দুই প্রান্তে ৯টি করে বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার হবে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য ২টি করে আলাদা বুথ থাকবে। এছাড়া দুই প্রান্তেই আলাদা রেকার থাকবে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, যানজট নিরসনে আমরা অনেক প্রস্ততি নিয়েছি। যানজন নিরসনে মহাসড়কের টাঙ্গাইলের অংশে জেলা পুলিশের প্রায় ৮ শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। মহাসড়কে ৫টি সেক্টর ভাগ করা হয়েছে। মহাসড়কে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে। আশা করছি সকলের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হবে না।

