

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: স্বপ্ন পূরণ হলেও; সেই স্বপ্নই কেড়ে নিল উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগরের প্রাণ। ছোট থেকেই মেধাবী সাগরের ইচ্ছে ছিলো পাইলট হবার। ক্যাডেট কলেজে পড়াশুনা করা সাগরের পরিবার চেয়েছিল ছেলে পড়াশুনা শেষ করে সেনাবাহিনীর অফিসার পদে চাকুরী করুক। কিন্ত সাগরের ইচ্ছে পাইলট হবার, বলছিলেন সাগরের মামা শওকত আলী।
সাগরের মামা শওকত আলী জানান, সাগরের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন সবাই রাজশাহীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন দীর্ঘদিন ধরে। মাঝে মধ্যে তারা দেশের বাড়ি আসেন। এক বছর আগে সাগর তার গ্রামের বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। এরপর আর আসেননি। কিছুদিন পূর্বে সাগর বিয়েও করেছেন। তার স্ত্রী ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষক।
তিনি বলেন, সাগরের বাবা তোহরুল ইসলাম আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা করেন। তার একমাত্র বোন তাসমিয়া ইসলাম সৃষ্টি মেডিকেল কলেজের ছাত্রী। মা সালেহা বেগম গৃহীনি। দাদা-দাদি মারা গেলেও; নানা-নানী বেঁচে আছেন। সাগরের বাপ-চাচারা সাত ভাই। যাদের মধ্যে একজন থাকেন আমেরিকায়; দুজন ঢাকায় এবং চারজন রাজশাহীতে বসবাস করেন।
জানা গেছে, তৌকির ইসলাম সাগর ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত রাজশাহীর গভ. ল্যাবরেটরী স্কুলে পড়াশুনা করেন। এরপর সপ্তম শ্রেণিতে গিয়ে ভর্তি হন পাবনা ক্যাডেট কলেজে। সেখানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করে চাকরিতে যোগ দেন।
এদিকে দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তোকিরের মৃত্যুর খবর। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে আত্মীয়-স্বজনদের মাঝেও। এমন একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর সারাদেশের মানুষকে যেমন নাড়িয়ে দিয়েছে; তেমনি বাকরুদ্ধ করেছে সাগরের আত্মীয়-স্বজনকেও। এ ঘটনায় সাগরের গ্রমের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের কৃষ্ণচন্দ্রপুরের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী ঘটনা জানার পর সবাই মর্মাহত।
সাগরের মামা শওকত আলী জানান, সাগরের লাশ কোথায় দাফন করা হবে এ বিষয়ে এখানো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি তার পরিবার সিদ্ধান্ত নিবে। তবে মৃত্যুর খবর জানার পর সাগরের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনেরা ঢাকায় রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সাগরের আরেক মামা সেলিম জানান, বিমান বাহিনীর এক সেনা কর্মকর্তার কাছ থেকে তারা প্রথম জানতে পারেন এ দুর্ঘটনার খবর। পরে ঢাকায় থাকা সাগরের দুই চাচা ও তিনি ছুটে যান সিএমএইচ হাসপাতালে। বর্তমানে তারা সিএমএইচ হাসপাতালে অপেক্ষা করছেন ভাগ্নের লাশ গ্রহণের।
এদিকে, এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মানুষ সাগরের মৃত্যুতে যেমন শোকাহত, তেমনি এ ঘটনায় যারা মারা গেছেন তাদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। আর যারা আহত হয়েছেন তাদের সবার জন্য সুস্থতা কামনা করেছেন।

