

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণুবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, ইসলামিক চিন্তাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. এম শমশের আলীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মরণসভা, স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ এবং তাঁর জীবন ও কর্মভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সিআরসি ড. এম শমশের আলী পদক-২০২৬’ প্রদান করা হয়। এ পদকে সম্মানিত হন ড. হারুনুর রশিদ ও সাংবাদিক আমিরুল মোমেনীন মানিক।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।
স্মরণসভায় বিশেষ অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এম শমশের আলীর জীবন, কর্ম, বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা, ইসলামিক চিন্তাধারা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা তাঁর কর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং তাঁর অবদান সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ড. হারুনুর রশিদকে বিশেষ সম্মাননা
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘সিআরসি ড. এম শমশের আলী পদক-২০২৬’ প্রদান। ইসলামিক শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার বিকাশে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পদকে সম্মানিত হন ড. হারুনুর রশিদ। একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য সম্মাননা পান সাংবাদিক আমিরুল মোমেনীন মানিক।
প্রধান অতিথি ও সভাপতির উপস্থিতিতে স্মরণানুষ্ঠান
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ স্মরণসভায় বিশেষ অতিথিরা অধ্যাপক ড. এম শমশের আলীর জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যে তাঁর জ্ঞানচর্চা, গবেষণামনস্কতা, ইসলামিক চিন্তাধারা এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বক্তারা তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁর কর্ম ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। এ ধরনের আয়োজন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবন ও কর্মকে নতুনভাবে মূল্যায়ন এবং তাঁদের অবদান সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও প্রতীয়মান হয়।
স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ ও প্রামাণ্যচিত্র উন্মোচন
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. এম শমশের আলীর জীবন ও কর্ম নিয়ে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ এবং জীবনীভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র উন্মোচন করা হয়। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁর বহুমাত্রিক কর্মজীবন, চিন্তাধারা ও অবদান সংরক্ষণের পাশাপাশি তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরমাণুবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ড. এম শমশের আলী ইসলামিক চিন্তাধারা, লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অবদান রেখেছেন। তাঁর জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক স্মারকগ্রন্থ ও প্রামাণ্যচিত্রে সংরক্ষণের উদ্যোগ গবেষক, শিক্ষার্থী এবং আগ্রহী পাঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠতে পারে।
স্মৃতি সংরক্ষণ ও জ্ঞানচর্চার প্রত্যয়
বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবন ও কর্ম সংরক্ষণ একটি সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস সমৃদ্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অধ্যাপক ড. এম শমশের আলীর স্মরণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার বিকাশে তাঁর অবদান তুলে ধরার একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি) এবং কালচারাল রিসার্চ সেন্টার (সিআরসি)। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অধ্যাপক ড. এম শমশের আলীর জীবন ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর আদর্শ ও অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
স্থান: আর সি মজুমদার মিলনায়তন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
আয়োজক: বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি) ও কালচারাল রিসার্চ সেন্টার (সিআরসি)।

