ঢাকা
প্রকাশিত : September 9, 2026
আপডেট: September 9, 2026
প্রকাশিত : September 9, 2026

৫টি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলার পর জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের: সিএনএন

মার্কিন বাহিনীর হামলায় পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস হওয়ার পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক মিত্র জর্ডানের দিকে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান।

জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ভূপাতিত করা হয়েছে। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গত দুই দিনে, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজে দু'বার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা চালায় ইরান। হামলার দুটি প্রচেষ্টাই এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি। পরে এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, চারটি তেলবাহী জাহাজে ওমান উপসাগরে এবং অপর একটি জাহাজে পারস্য উপসাগরের খার্গ দ্বীপের কাছে হামলা চালানো হয়। হামলার আগে, জাহাজগুলোর ক্রু'দের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল মার্কিন বাহিনী।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, হামলায় কোনো মার্কিন সেনা বা নৌসদস্য আহত হননি। মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি বর্তমানে আঞ্চলিক জলসীমায় টহল অব্যাহত রেখেছে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এসব হামলা-পাল্টা হামলা হলো। ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়াতে সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালির আশপাশে হামলা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দিতে এসকর্ট অভিযান পরিচালনা এবং ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধও বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন।

জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মার্কিন হামলার পর, ইরান, পাল্টা জবাব হিসেবে জর্ডানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। তেহরান জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি। গুরুত্বপূর্ণ এই সামরিক ঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনীও ব্যবহার করে।

জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করে। অপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তবে এখানেই থামেনি ইরানের হুঁশিয়ারি। বাহরাইন-কুয়েতের বন্দরসংলগ্ন এলাকায় থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে দেশটি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি আইআরজিসি'র বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী জাহাজের ক্রু'দের দ্রুত জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এসব দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও ইরানের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেছে আইআরজিসি।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন হামলার শিকার হওয়া একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ খার্গ দ্বীপ থেকে মাত্র চার মাইল দূরে ছিল। ইরানের তেল রফতানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এই খার্গ দ্বীপ।

এছাড়া আইআরআইবি জানিয়েছে, ওমান উপসাগরের কাছে জাস্ক উপকূলের কাছেও আরেকটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। দুটি জাহাজের ক্রু'দেরই লাইফবোটে করে নিরাপদে তীরে নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

‘ইরান মার্কিন নৌযানে হামলা করলে তেলবাহী জাহাজ হারাবে’

ইরানের হামলার জবাবে আরও কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। কলম্বিয়া সফরকালে ব্যারানকিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান যতবার মার্কিন নৌযানে হামলা চালাবে বা হামলার চেষ্টা করবে, ততবারই তেলবাহী জাহাজ হারাবে।

রুবিও বলেন, ‘ইরান এখনো মার্কিন নৌযানে হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা যতবার এমন করবে বা করার চেষ্টা করবে, ততবারই তাদের তেলবাহী জাহাজ হারাতে হবে।’

এর আগে, সপ্তাহান্তে ইরানের তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। ওই সময় ইরানের আইআরজিসি একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারে হামলার চেষ্টা করেছিল বলে দাবি করে ওয়াশিংটন।

ইরানের বিমান খাতেও নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও জোরদার করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার ইরানের বিমান খাতের ওপর বড় ধরনের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে ইরানের ২৭টি বিমান সংস্থা এবং নয়টি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও বিক্রয় এজেন্ট। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের বেসরকারি বিমান সংস্থা মাহান এয়ারকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০১১ সাল থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে মাহান এয়ার। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরকে (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়ে আসছে।

ফলে সামরিক হামলা, নৌ অবরোধ ও তেলবাহী জাহাজে আঘাতের পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতি ও পরিবহন খাতেও চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। পাল্টা জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলবাহী জাহাজে হামলার হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram