ঢাকা
প্রকাশিত : July 23, 2026
আপডেট: July 23, 2026
প্রকাশিত : July 23, 2026

কুমিল্লায় ১৯ কার্যদিবসের মধ্যে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়, ঘাতকের মৃত্যুদন্ড

শাহাজাদা এমরান, কুমিল্লা: বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কুমিল্লায় ৯ বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১ এর বিচারক মোঃ ইয়াছিন আরাফাত। মাত্র ১৯ কার্য দিবসের মধ্যে এই মামলার রায় প্রদান করায় সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সামাজিক ব্যক্তিত্বরা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল সকালে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৯ বছর বয়সী তাজরিন সুলতানা ঝুমুর (৯) কে অপহরণ করে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার খেয়াইশ ঠাকুরবাড়ি পুকুরের পশ্চিম পাড়ে সুজন মিয়ার ধানি জমিতে নিয়ে গিয়ে আসামি মফিজুল ইসলাম মফু (৫০) এ ঘটনা ঘটান।

ঘটনার দিন সকাল ১০টার দিকে স্কুল ছুটির পর ঝুমুর বাড়িতে না ফেরায় তার মা রাজিয়া আক্তার স্কুলের শিক্ষিকা পারভীন আক্তার বৃষ্টির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শিক্ষিকা জানান, ঝুমুর অনেক আগেই স্কুল থেকে বাড়ির উদ্দেশে বের হয়ে গেছে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার জন্য রওনা দেন।

পথিমধ্যে মামলার ৬ নম্বর সাক্ষী বাদল মিয়া ঝুমুরের মরদেহ খেয়াইশ ঠাকুরবাড়ি পুকুরের পশ্চিম পাড়ে সুজন মিয়ার ধানি জমিতে পড়ে থাকার খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুমুরের মা তার মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

মামলার ১ নম্বর সাক্ষী নজরুল ইসলাম আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ঘটনাস্থল থেকে মফিজুল ইসলাম মফুকে দ্রুত রাস্তার দিকে যেতে দেখেছেন। পরে উত্তেজিত জনতা আসামির বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ঝুমুরের মা রাজিয়া খাতুন সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ২০২৪ সালের ১ মে র‍্যাব চাঁদপুর থেকে আসামি মফিজুল ইসলাম মফুকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর ৬ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে ১৪ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে আদালত মাত্র ১৯ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার রায় ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী এড. মোঃ মাহবুবুল হক জানান, অত্র মোকদ্দমায় বিজ্ঞ আদালত দ্রুততম সময় আসামির বিরুদ্ধে ফাঁসির দন্ডাদেশ প্রদান করার মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। বাদী পক্ষে অন্যান্যদের মধ্যে মামলা পরিচালনা করেন এড. খালেদা শারমিন, এড. শাহিন হোসেন মিঠু। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এড. বদিউল আলম সুজন এবং এড. আবদুল মোতালেব।

কুমিল্লা নাগরিক অধিকার ফোরাম কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কুমিল্লার জমিনের সম্পাদক শাহাজাদা এমরান বলেন, “শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। মাত্র ১৯ কার্যদিবসের মধ্যে রায় প্রদান বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়াবে। এই রায় অপরাধীদের জন্য কঠোর বার্তা এবং সমাজের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।” তিনি এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram