ঢাকা
৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১১:৪২
প্রকাশিত : জুলাই ৭, ২০২৬
আপডেট: জুলাই ৭, ২০২৬
প্রকাশিত : জুলাই ৭, ২০২৬

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে পানি বাড়ার সাথে নদী ভাঙন তীব্র হচ্ছে

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে যমুনা নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে তীব্র নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। সলিমাবাদ ইউনিয়নের সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় অর্ধশত বাড়িঘর, কুয়েতি মসজিদ, ফসলি জমি ও বহু গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে পাকা রাস্তা, স্কুল, মাদ্রাসা ও হাটবাজার।

ভাঙনকবলিত এলাকায় দেখা যায়, গত ১৫ দিন যাতবত যমুনার প্রবল স্রোতে মুহূর্তেই ধসে পড়ছে নদীর তীর, ঘরবাড়ি ও মসজিদ মাদ্রাসা। শেষ সম্বল রক্ষায় নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা আসবাবপত্রসহ ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন, অনেকেই আবার সরাতেও পারছেন না। বাস্তুভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে নদীপাড়ের সহস্রাধিক পরিবার।

গত কয়েক দিনের টানা ভাঙনে সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি ও শত শত বিঘা ফসলি জমি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কুয়েতের অর্থায়নে নির্মিত ২২ বছরের পুরোনো মসজিদটিও যমুনায় তলিয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এই এলাকায় ভাঙন দেখা দিলেও ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। ফলে বারবার তাঁদের ঘরবাড়ি সরাতে হয় এবং ভিটেমাটি হারিয়ে তাঁরা নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।

নদীগর্ভে বসতভিটা হারানো আব্দুল হক (৬০) জানান, মাত্র ১৩ শতাংশ নিয়ে তাঁর বসতবাড়ি ছিল। গোটা বসতবাড়ি এখন নদীর পেটে। বসতবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন তাঁরা।
সুফিয়ান (৫০) নামের আরেক ব্যক্তি জানান, তাঁর একটি মাত্র ছাপরাঘর ছিল। গাছপালাসহ সেই বসতঘরটিও যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত রাসেদ মিয়া জানান, এক ঘণ্টার মধ্যে ১০ বিঘা জমিসহ বসতভিটা নদীতে তলিয়ে গেছে। কিছুই রক্ষা করতে পারেননি। একই অবস্থা ওই এলাকার বারেক, ছালাম, কুদ্দুছ, শাহালম, মতিন, সাকিলসহ আরও অনেকের।

সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন ভূঁইয়া জানান, যমুনার তীরে প্রচণ্ড ভাঙন শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবছর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙন শুরু হয়। গত ১৫ দিনে ৩০ থেকে ৩৫টি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এখনই জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ না হলে পশ্চিম সলিমাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকা মানচিত্র থেকে মুছে যাবে।

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরফান উদ্দিন জানান, ভাঙনরোধে পাঁচটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কাজ করা হবে। এ ছাড়া ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা শেষে তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram