

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটে হযরত খানজাহানের (রহ.) দীঘি থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া কুমিরটি ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছে মাজার শরীফের খাদেমরা। রবিবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি জানান হযরত খানজাহানের মাজার শরীফের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম।
হযরত খানজাহানের মাজার শরীফের কুমিরের সাড়ে ৬০০ বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্যে ও সংষ্কৃতির অবিচ্ছদ্যে অংশ হিসেবে অনতিবিলম্বে মাজারের দিঘীতে কুমিরটিকে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে মাজার শরীফের খাদেমরাসহ সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাজার শরীফের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান (রহ.) মাজার শরীফের দীঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ায় বাগেরহাটবাসী হতাশ ও মর্মাহত হয়েছে। মাজার শরীফের কুমির শতশত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্যে ও সংষ্কৃতির অবিচ্ছদ্যে অংশ। দেশ বিদেশের অসংখ্য দর্শনার্থী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে আসে মাজার শরীফ জিয়ারত ও কুমির দেখার জন্য। মাজারি শরীয়ের কুমির শুধু একটি প্রাণি নয়, এটি বাগেরহাটের ঐতিহ্যের প্রতীক ও আবেগের অংশ ইতিহাসের জীবন্ত স্মারক।
সম্প্রতি দীঘির কুমিরের আক্রমণে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। অনাকাঙ্খিত একটি দূর্ঘটনার পরে হঠাৎ করে দীর্ঘদিনের ঐহিত্য দীঘি থেকে কুমির সরিয়ে নেওয়া কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রশাসন চাইলে মাজারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে পারত। দর্শনার্থীদের জন্য দীঘিতে সুরক্ষা বেষ্টনী, দীঘিতে না নামার সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি, পর্যাপ্ত পাহারা ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিল। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে মাজার কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসনকে আমরা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা দুঃখের সাথে লক্ষ্য করলাম প্রশাসন মাজার শরীফ কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয়দের কোন মতামত বিবেচনা না করে দ্রুত কুমির সরিয়ে নেয়। আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই হযরত খানজাহান (রহ.) মাজার শরীফের কুমির বাগেরহাটের সম্পদ, এটি আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই অনতিবিলম্বে মাজার শরীফের দিঘীতে কুমিরটিকে ফিরিয়ে দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজার শরীফের দিঘীর মহিলা ঘাটে গোসল করতে নামলে দীঘির একমাত্র কুমিটির আক্রমণে ফাতেমা নামে আট বছর বসয়সী একটি শিশুর মৃত্যু হয়। এরপর বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন মাজার শরীফে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরী সভায় দীঘি থেকে কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ি পরদিন গত বুধবার দীঘিতে থাকা একমাত্র নারী কুমিরটিকে বনবিভাগ ধরে খুলনার কয়রার বন্যপ্রাণি উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়।

