

জিহাদ রানা, বরিশাল ব্যুরো: ছয় দফা দাবিতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। রবিবার সকাল থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ইন্টার্ন চিকিৎসক তানভীর রেজা জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবনায় এফসিপিএস অধ্যয়নরত চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোতে বৈষম্য করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে দুই বছর উপজেলা পর্যায়ে পদায়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত চিকিৎসকদের শিক্ষা, পেশাগত উন্নয়ন ও জীবনমানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তাদের আশঙ্কা।
তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসকদের ওপর একাধিক হামলার ঘটনায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তারা ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবির মধ্যে রয়েছে— এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নসংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাব বাতিল, বিএমইউ ও বিসিপিএস পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ এবং বিসিএসে চিকিৎসকদের বয়সসীমা ৩৪ বছর করা। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের নবম গ্রেড সমমানের বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেডিকেল কলেজের প্রথম থেকে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে ক্লাস বর্জন এবং সব পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে মিড-লেভেল চিকিৎসকদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, হাসপাতালে প্রায় ২২০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছেন। তাদের আকস্মিক কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক অস্ত্রোপচারও নির্ধারিত সময়ে করা সম্ভব নাও হতে পারে। তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধানে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

