

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় একটি সমঝোতা স্মারক বা মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং 'প্রায় চূড়ান্ত' পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর, আল জাজিরার।
শনিবার (২৩ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।
ট্রাম্প জানান, সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। তবে তিনি বলেন, চুক্তিটি এখনো মার্কিন ও ইরানি আলোচকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি লেখেন, চুক্তির শেষ ধাপ ও বিস্তারিত বিষয়গুলো বর্তমানে আলোচনা হচ্ছে। খুব শিগগিরই তা ঘোষণা করা হবে।
এর আগে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, জর্ডান, মিশর, তুরস্ক ও বাহরাইনের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ করেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলেছেন বলে জানান তিনি।
গত সপ্তাহজুড়ে ট্রাম্পের অবস্থানে নানা পরিবর্তন দেখা গেছে। সপ্তাহের শুরুতে তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পরে তিনি জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে তিনি সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিত রেখেছেন।
এরপর কখনও তিনি উত্তেজনা বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনও চুক্তি খুব কাছাকাছি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। শনিবার তিনি সামাজিক মাধ্যমে ইরানের মানচিত্রের ওপর মার্কিন পতাকার একটি ছবিও পোস্ট করেন।
এদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির শনিবার (২৩ মে) ইরান সফর শেষে দেশে ফিরে গেছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে সফরটিকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সমঝোতার পথে উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে।
তবে তেহরান বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। কারণ, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালেই দুই দফায় ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। যদিও ৮ এপ্রিল থেকে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চালু রয়েছে, তবে মাঝে মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও চলাচল, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের জব্দকৃত অর্থ ফেরত।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলের উত্তেজনা কমলে বিশ্ববাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

