

মাসুদ রানা, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া বলেছেন, বিএনপি সরকার কৃষকদের জন্য কাজ করছে। কৃষির ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন সময়ে প্রণোদনা, সুযোগ-সুবিধা ও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় কৃষকদের মানোন্নয়নের জন্য যে ধরনের সেবা প্রয়োজন, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে—একটি কারণ দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যায় না।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে “প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)” প্রকল্পের আওতায় পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
হুইপ বলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের জন্য যে পরামর্শ দেওয়া হয়, অনেক সময় আমরা তা অনুসরণ না করে নিজেদের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে ফসল উৎপাদন করি। এর ফলে কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি তৈরি হয় এবং একে অপরকে দোষারোপ করার প্রবণতা দেখা দেয়। এই সমন্বয়হীনতার কারণেই মূলত সমস্যাগুলো সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বলেন, পাটনার কংগ্রেসের খামারভিত্তিক যে পদ্ধতি রয়েছে, তা মূলত যাদের পাঁচ বিঘা বা ১০ একর জমি আছে, তাদের জন্য কার্যকর। সরকারিভাবে আমরা চেষ্টা করছি—কীভাবে একজন কৃষককে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়। বর্তমানে যাদের প্রচুর জমিজমা রয়েছে, তাদের অনেকেই কৃষির সঙ্গে আর সম্পৃক্ত নন। তারা শহরে বসবাস করছেন, গ্রামে অনুপস্থিত থাকছেন—এর ফলেই কৃষিতে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এই শ্রেণির মানুষদের যদি আবার কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়, তাহলে আজকের অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য সফল হবে। আমরা কিছু কিছু ফসল প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদন করি, যার ফলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। কৃষকরা যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য সরকারি চিন্তাভাবনাকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মোট জনসংখ্যা কত, সেই জনসংখ্যার চাহিদা অনুযায়ী কোন ফসলের কতটুকু প্রয়োজন—এটি আগে নির্ধারণ করতে হবে। এরপর অঞ্চলভেদে কোন ফসল বেশি উৎপাদন উপযোগী, সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকার নিচে কৃষিঋণ মওকুফ করেছেন। কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। কৃষকদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আপনারা ধৈর্য ধরবেন। আমাদের সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সব পর্যায়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে আগামীর বাংলাদেশকে কীভাবে সমৃদ্ধ করা যায়, সে লক্ষ্যে ইনশাআল্লাহ কাজ করে যাবে। এ জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ আবু জাফর মোহাম্মদ সাদেক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার, জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. রবিউল আলম তুহিনসহ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও কৃষকরা।

