

হাসমত আলী, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ১৫ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে সালাম (২১) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পৃথক আরেক ধারায় তাকে আরও ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বহুল আলোচিত এ মামলায় সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা শিশু ধর্ষণ অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ মোস্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে আসামি সালামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি একই আইনের ৭ ধারায় তাকে আরও ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে অতিরিক্ত ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত সালাম চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের বজলুর রশিদের ছেলে।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে দশম শ্রেণির ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ করে সালাম। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ভুয়া বিয়ের প্রলোভন দেখানো হয়। এমনকি কাল্পনিক কাবিননামা তৈরি করে সম্পর্ককে বৈধ দেখানোর চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় ভুক্তভোগীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় উঠে আসে।
ঘটনার পর ছাত্রীর মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হারুন অর রশীদ দীর্ঘ তদন্ত শেষে সালাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
বিচারিক পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, মেডিকেল রিপোর্টে ধস্তাধস্তির সুস্পষ্ট চিহ্ন না থাকলেও ভিকটিমের বয়স ১৬ বছরের কম হওয়ায় এবং সম্মতিবিহীন যৌন সম্পর্কের প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করেন।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে অপহরণে সহায়তার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেও প্রমাণের অভাবে অন্য আসামি বজলুর রশীদ মজু, মনোয়ারা বেগম এবং জালাল ওরফে শাহজালালকে দায়মুক্তির সুপারিশ করা হয়। এছাড়া মামলার ২ নম্বর আসামি আল-আমিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম এম শাহজাহান মুকুল রায়ের পর বলেন, বাদীপক্ষ এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। আমরা মনে করি, এ রায় সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।
রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত সালামকে কঠোর পুলিশ পাহারায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আইনজীবী ও আদালত সংশ্লিষ্টদের মতে, শিশু ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঘটনায় এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক রায় ভবিষ্যতে অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

