

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ফিলিং স্টেশন এলাকায় তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা আব্দুস সবুর বুলেটকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩ দিনের কারাদণ্ড ঘোষণা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে বানেশ্বর ফিলিং স্টেশনে সিরিয়াল ভেঙে অবৈধভাবে তেল নেওয়ার চেষ্টা করলে এ বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় আব্দুস সবুর বুলেট প্রভাব খাটিয়ে তেল নেওয়ার চেষ্টা করেন। বাধা দিলে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি অসদাচরণ করেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার একপর্যায়ে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে তাকে আটক করে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ঘটনাস্থলেই ৩ দিনের কারাদণ্ড ঘোষণার কথা উপস্থিতদের জানানো হয়। তবে রহস্যজনকভাবে কিছু সময় পরই তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বানেশ্বর ফিলিং স্টেশনে মোঃ সম্রাট হোসেন (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুঠিয়া থানা পুলিশ। তিনি পুঠিয়া থানার নামাজগ্রাম পূর্ব পাড়া এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন।
পুলিশ জানায়, তাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে লিয়াকত সালমান বলেন, “বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল। পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত দণ্ড ঘোষণা করে, সেখানে কীভাবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে ছেড়ে দেওয়া হলো? এর পেছনে কোনো চাপ বা প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, আব্দুস সবুর বুলেট রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও দুর্গাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব। তার বাড়ি দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের হোজা গ্রামে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

