

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রমজান আলীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এস কে এম তোফায়েল হাসান জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
২০০৭ সালে দুর্নীতির অভিযোগে রমজান আলীর বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে একটি মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। অপর দুটি মামলা আদালতে বিচারাধীন। এ দুটি মামলার শুনানিতে আদালতে অনুপস্থিত থাকায় গত ফেব্রুয়ারিতে রমজান আলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এই দুটি মামলায় রমজান আলী আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন।
মামলার এজাহারে জানা গেছে, ১৯৯৮ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌর সুপার মার্কেটের দক্ষিণ পাশের নিচু জায়গা ভরাটের কাজে ঠিকাদার আমিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশে পৌরসভার তহবিল থেকে ৪ লাখ ২২ হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাৎ করেন তৎকালীন মেয়র রমজান আলী। এ ঘটনায় ২০০৭ সালের ৩ মে রমজান আলী ও আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করে দুদক।
আরেকটি মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মানিকগঞ্জ কাঁচাবাজারের দক্ষিণ পাশের ডোবা ভরাটের কাজও দেওয়া হয় আমিরুল ইসলামকে। রমজান আলী একই কাজ বারবার বর্ধিত করে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৩৩০ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায়ও একই দিন রমজান আলী ও আমিরুল ইসলামকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করা হয়।
দুটি মামলার তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৩ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের জেলা কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম। দুটি মামলায় আমিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। বর্তমানে তিনি জামিনে।
মানিকগঞ্জে দুদকের আইনজীবী দেওয়ান মিজানুর রহমান বলেন, রমজান আলীর বিরুদ্ধে দুটি মামলার শুনানিতে তিনি দীর্ঘদিন আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। আজ আদালতে হাজির হলে তার আইনজীবীরা জামিন চান। বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অপরদিকে, রমজান আলীর আইনজীবী এ টি এম শাহজাহান বলেন, অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় আবার জামিন আবেদন করবেন বলে তিনি জানান।

