

ওমর ফারুক, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের ভবানীপুর বাজারে রাস্তার মাঝখানে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ব্যস্ততম দুটি রাস্তার ঠিক মাঝখানে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে খুঁটি দুটি দাঁড়িয়ে থাকলেও তা অপসারণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চালক।
সরেজমিনে ভবানীপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের ভেতরের দুটি প্রধান ও ব্যস্ততম রাস্তার একদম মাঝখানে পল্লী বিদ্যুতের দুটি খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে। রাস্তা সরু হওয়ায় এবং মাঝখানে খুঁটি থাকায় বড় কোনো যানবাহন ঢুকতে পারছে না। এমনকি ছোট যানবাহনগুলো চলাচলের সময় প্রায়ই খুঁটির সাথে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভবানীপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মোঃ আরিফুজ্জামান লেবু বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারের রাস্তার মাঝখানে খুঁটি থাকা মানেই উন্নয়নের পথে বাধা। গত ২০-২৫ বছর ধরে আমরা এই ভোগান্তি সহ্য করছি। বাজারের ব্যবসায়ীরা মালামাল আনা-নেওয়া করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। আমরা দ্রুত এই খুঁটি দুটি স্থানান্তরের দাবি জানাই।
বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, রাস্তাটি প্রশস্ত হলেও মাঝখানে খুঁটি থাকায় কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায়ই ভ্যান, অটোরিকশা বা বাইক খুঁটির সাথে ধাক্কা খেয়ে আহত হওয়ার খবর পাই। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের আবেদন, বড় কোনো প্রাণহানির আগেই যেন খুঁটিগুলো সরানো হয়।
স্থানীয় সমাজসেবক মোঃ মঞ্জুরুল হক বলেন, ভবানীপুর বাজারটি এলাকার অন্যতম বড় বাণিজ্য কেন্দ্র। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই পথে যাতায়াত করেন। রাস্তার মাঝখানে এমন জনবিরোধী অবস্থায় খুঁটি থাকাটা দুঃখজনক। জনস্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে এটি সমাধান করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে আত্রাই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. জসিম উদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটার জন্য আমি ব্যক্তিগত ভাবে দায়ী নই। রাস্তা নির্মাণের সময় তৎকালীন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ও কন্ট্রাক্টরের সমন্বয়ের অভাবে এমনটা হতে পারে। তবে আমাদের কোনো কারিগরি ত্রুটি আছে কি না, তা আমাদের লোক গিয়ে খতিয়ে দেখবে।
অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুতের এজিএম মো. রাজু হাসান বলেন, তিনি দ্রুতই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

