

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাতবোমা তৈরির সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে দুইজন নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন মূল পরিকল্পনাকারী শরীফ উদ্দীন দুলাল। রোববার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ।
পুলিশ জানায়, শরীফ উদ্দীন দুলাল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাঁটাপাড়া এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে। আগে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং নির্বাচনি কার্যক্রমেও তাকে সক্রিয়ভাবে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির মালিক কালামের ভাই দুলালের নির্দেশে বোমা বানানোর কাজ চলছিল। কয়েক বছর আগেও দুলাল আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছিলেন। তবে, সীমান্ত কেন্দ্রিক অবৈধ ব্যবসা করে তিনি বেশ টাকা পয়সার মালিক হন। তিনি এলাকায় মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের বরখাস্ত ও পলাতক চেয়ারম্যান ৪টি হত্যা মামলার আসামি এবং বোমাকাণ্ডের মামলার প্রধান আসামি শাহিদ রানা টিপু চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, পলাতক চেয়ারম্যান শাহিদ রানা টিপুর অনুপস্থিতিতে নিজে নেতা হতে চেয়েছিলেন দুলাল। এ জন্য এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা ও ত্রাস সৃষ্টির জন্য বোমগুলো বানানো হচ্ছিল। প্রতিপক্ষের বাড়ি বাড়ি হামলার পরিকল্পনা ছিল তার।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে তার নাম না থাকলেও তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী তার নির্দেশেই বোমা তৈরির কাজ চলছিল বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ সোমবার দুপুরে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আমলী আদালত-ক অঞ্চলে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে একই ঘটনায় বিস্ফোরণে আহত তিনজনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শনিবার ভোরে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাঁটাপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে জিহাদ আলী ও আল আমিন নামে দুই যুবক নিহত হন। আহত বজলুর রহমান, শুভ ও মিনহাজ আলী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর পুলিশ ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে।

