

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী এই যুগের সবচেয়ে বড় দল। কিন্তু আমরা কোন দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না। আমরা কোন পরিবার ও গোষ্টিতন্ত্র কায়েম করতে চাই না। আমরা বাংলাদেশ ইসলামীর বিজয়ও চাই না। আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।
তিনি বলেন, তিস্তা পাড় থেকে এই বিজয় শুরু হয়েছে। সারা বাংলায় এখন মুক্তির গণজোয়ার শুরু হয়েছে। এতে দেশের মেয়েরাই আমাদের শক্তি যুগিয়েছিল। আমরা মাদেরকে কথা দিচ্ছি, আমাদের সবকিছুর বিনিময়ে আপনাদের চলাচলে শতভাগ নিরাপত্তা নিম্চিত করা হবে। মা-বোনদের সম্মান করা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
৪ দিন আগে আমার এক্স আইডি হ্যাক করে যাতা চালানো হয়েছে। আর একটি দল তাইরে নাইরে বলে ঝাপিয়া পড়ছে। লজ্জা, ওদের চুনুপুটিসহ বড় বড় নেতারাও গান গাওয়া শুরু করলো। আমাদের সাইবার টিম তাদেরকে শক্তভাবে ধরে ফেলেছে। অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সত্য ঢাকা থাকে না।
তিনি বলেন, রংপুর অঞ্চলের আবু সাইদ বলেছিল ভিতরে তুমুল ঝড় বুক পেতেছি গুলি কর। গুলি পিঠে নেয় নাই তিন তিনটি গুলি বুকে নিয়েছিল। এটাই বীরত্বের পরিচয়। এখান থেকে জুলাই আন্দোলন জ্বলে উঠেছিল। আপনারা বড়ই সৌভাগ্যবান।
আমরা আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি আধিপত্যের বাদের বিরুদ্ধে আপসহীন যোদ্দা হিসেবে আবরার ফাহাদ প্রথমে শাহাদৎ বরণ করেছিল। তার রাস্তা ধরে আবু সাইদের মৃত্যু। সেই রাস্তা ধরে তাদের সহযোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হয়েছেন। একে একে তারা ১৪শ জন শহীদ হয়েছে। এই ১৪শ বীরের লাশ এখন এই জাতির ঘাড়ে। এই ১৪শ বীরের রক্ত আমাদের নদীগুলো লাল করে দিয়েছে। আমরা এই বীরদের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করবো না।
তিনি বলেন, আমাদের নদীগুলোকে কঙ্কার বানিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সবগুলো চোর। নদী ভাঙ্গনরোধের জন্য যতগুলো বাজেট হয়েছে সব তাদের পেটে গিয়েছে। এই চোরেরা টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা। আমরা যদি সুযোগ পাই তাহলে ওদের বুকে হাত ঢুকিয়ে সব বের করে আনা হবে। ক্ষমতায় গেলে দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলা কুড়িগ্রাম থেকে উন্নয়ন শুরু হবে।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় কুড়িগ্রাম কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এর আগে বক্তব্য রাখেন, এনসিপি'র সদস্য সচিব আকতার হোসেন, জেলা জামায়াতের আমির আজিজুর রহমান সরকার, সেক্রেটারী নিজাম উদ্দিন, এনসিপি'র জেলা আহবায়ক মো: মুকুর মিয়া, কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-২ আসনে এনসিপি প্রার্থী ড. আতিক মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জামায়াত প্রার্থীসহ অন্যান্য।
বুধবার সকাল ৯ টায় শুরু হওয়া জনসভা দুপুর ১ টায় শেষ হয়। জনসভাস্থল সরকারি কলেজ মাঠ জামায়াত এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

