ঢাকা
৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সকাল ৬:৪৭
প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

কক্সবাজারে কারাগার সংলগ্ন পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণ, এলাকায় উদ্বেগ

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার শহরের পুলিশ লাইনের সামনে মাটিয়াতলি এলাকায় জেলা কারাগারের পাশের একটি পাহাড় কেটে পাঁচটি টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এ সময় শতাধিক মাদার ট্রি ও অন্যান্য গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গত এক মাস ধরে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় পাহাড় কাটার খবর প্রকাশিত হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাহাড়সংলগ্ন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অস্ত্র ও মাদক মামলার আসামি আবুল কাশেমের নেতৃত্বে গত দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে দ্রুত পাহাড় কেটে এসব টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকার কিছু ব্যক্তি ওই টিনের ঘরগুলোতে জড়ো হন। সেখানে উচ্চস্বরে কথাবার্তা, হই–হট্টগোল ও মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে। এতে আশপাশের মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, একসময় সবুজে ঘেরা পাহাড়টির বড় একটি অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। পাহাড়ের মাটি সরানো হয়েছে এবং বহু মাদার ট্রি ও অন্যান্য গাছের গোড়া পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিছু স্থানে আগুন জ্বালানোর চিহ্নও রয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশের ক্ষতি তো হচ্ছেই, পাশাপাশি কারাগার-সংলগ্ন এলাকায় এমন স্থাপনা গড়ে ওঠায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আগেও এই এলাকায় নানা অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। এখন পাহাড় কেটে ঘর তোলায় মানুষ আরও আতঙ্কিত।’

এ বিষয়ে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, পাহাড় ও গাছ কাটার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তারা সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। এ ঘটনায় আবুল কাশেমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করা হয়েছে (এফআইআর নম্বর: ৩৬/৭১৮)। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলটি সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানের আওতাভুক্ত হওয়ায় গাছ অপসারণ বা স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে বন বিভাগ, ভূমি প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এখতিয়ার রয়েছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার ইউএনও জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর নির্দেশে সদর রেঞ্জার ও ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তদন্তে পাহাড় কাটা ও টিনের ঘর নির্মাণের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তহসিলদার নিশ্চিত করেছেন।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি (অপারেশন) মো. বাদল মিঞা বলেন, আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি বর্তমানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নেওয়া হলে পাহাড় ধ্বংস ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ভবিষ্যতে আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram