

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৫৫ বছর বয়সী মতিবর ফকির নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ৫ মাস আগে ধর্ষণের ঘটনার সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি। সম্প্রতি ওই কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তনজনিত কারণে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে সে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানায় চিকিৎসক।
এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢ়ুষমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম আর সাঈদ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিলমারী উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের ডাটিয়ারচর পুরাতন বাজার এলাকায় ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত মতিবর ফকির একই এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পাঁচ মাস আগে ওই কিশোরী কোন কাজে প্রতিবেশী মতিবর ফকিরের বাড়িতে যায়। এসময় বাড়ী ফাকা থাকার সুযোগে মতিবর ফকির তাকে জড়িয়ে ধরে মুখ চেপে ঘরের ভেতরে নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে জানালে ক্ষতি করার ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও সে জানায়। প্রাণের ভয়ে ও লোকলজ্জায় এতদিন বিষয়টি গোপন করে রাখে সে।
সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকেরা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মতিবর ফকিরের বিরুদ্ধে ঢুষমার থানায় ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্তের ছেলে হাফিজুর রহমান জাতীয়তাবাদী মৎসজীবী দলের ইউনিয়ন সভাপতি হওয়ার প্রভাব কাজে লাগিয়ে ভয়ভীতি দেখান। কিশোরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের রৌমারীতে নিয়ে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা না নিতে পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানায়।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মামা বলেন, আমরা মূল অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পাশাপাশি যারা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে চেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মতিবর ফকিরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তের ছেলে ও জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ইউনিয়ন সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, তাঁর বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য নয়। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন।
ঢ়ুষমারা থানার ওসি এম আর সাঈদ বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলা নং-০৩, তাং-২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ভুক্তভোগীর মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

