ঢাকা
৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সকাল ১১:২০
প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫
আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫
প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫

টাঙ্গাইলে ৫৫ বছর ধরে একই আঙিনায় চলছে নামাজ ও পূজা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এক বাড়ির আঙিনায় মসজিদ-ঈদগাঁ মাঠ ও মন্দির। একই সাথে ৫৫ বছর ধরে চলছে নামাজ ও পূজা। হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এটি। টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সদরের চৌধুরী বাড়ির আঙিনায় এ অসাম্প্রদায়িক পরিবেশের দেখা মিলে। প্রতিবছরের মতো এবারও চৌধুরী বাড়িতে শারদীয় দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজান ও নামাজের সময় বন্ধ থাকছে ঢাক-ঢোলের বাজনা। দুই ধর্মের লোকজনরাই নিজ-নিজ ধর্মীয় আচার ও নিয়ম পালন করে আসছে। কোনো অসুবিধা হচ্ছে না কারো।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর চৌধুরীবাড়ি মন্দিরে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসবের পূজা-অর্চনা, উলুধ্বনি ও ঢাকের বাজনা। পূজারি ও দর্শনার্থীরা প্রতিমা দেখতে এবং পূজায় অংশ নিতে আসছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আজান শুরু হওয়ার আগেই ঢাকঢোল, মাইক ও বক্সের বাজনা বন্ধ করে দেয়া হয়। মসজিদ থেকে ভেসে আসে আজানের সুর। এরপর মুসুল্লিরা আসতে শুরু করেন মসজিদে। নামাজ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আবার বেজে ওঠে মন্দিরের ঢাকঢোলের বাজনা।

পূজারিরা জানান, ৫৫ বছর ধরে এখানে মসজিদে নামাজ ও মন্দিরে পূজা অর্চণা করে আসছে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ। দুই ধর্মের মানুষ এক সাথে মিলেমিশে একই উঠানে গড়ে তুলেছেন মসজিদ ও মন্দির, এতে কারও কোন সমস্যা হয় না। একে অপরের সহযোগিতায় এখানে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান চলে আসছে। নামাজ ও আজানের সময় পূজা বন্ধ রাখা হয়। যুগ যুগ এই সম্প্রীতি বজায় রেখে হিন্দু-মুসলিম এক সাথে মিলেমিশে বসবাস করছে। কোনো দিন দুই ধর্মের মানুষদের মধ্যে কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি, ভবিষ্যতে আশা করি ঘটবে না।

অত্র এলাকার মুসুল্লিরা জানান, তাদের মধ্যে কোনো ঝগড়াঝাটি নেই। আজান-নামাজের সময়সূচি তাদের কাছে দেয়া আছে। নামাজ ও আজানের সময় বাজনা বন্ধ রাখে। তাদের নামাজে যাতে কোন অসুবিধা না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখে। তাদের সার্বিক সহযোগিতা করে। নামাজ শেষে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের ধর্মীয় উৎসব শুরু করেন।

নাগরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান হবি বলেন, একই স্থানে মসজিদ আর মন্দির নিয়ে কখনো কোনো দ্বন্দ্ব বা সাম্প্রদায়িক হানাহানি হয়নি।

টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান সোমবার সরেজমিন পরিদর্শন করে বলেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এর একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত টাঙ্গাইলের নাগরপুরের চৌধুরী বাড়ি। একই উঠানে মসজিদ ও মন্দির। তারা নামাজের সময় নামাজ আদায় করছে, পূজার সময় পূজা উদযাপন করছে। বিগত বছরের মতো এ বছরও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপিত হচ্ছে।

এই চৌধুরী বাড়িতে ৯২ বছর আগে বাংলা ১৩৩৯ সালে ওঝা ঠাকুর ও হরনাথ স্মৃতি কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির প্রতিষ্ঠিত করে শ্রী পরেশ চন্দ্র ও শৈলেশ চন্দ্র দাসয়ো। তারপর থেকে প্রতিবছরই ধুমধাম করে দুর্গাপূজা পালন করেন এলাকার সনাতনধর্মীর লোকজন। মন্দির প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪০ বছর পর একই আঙিনায় নির্মাণ করা হয় নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। একই স্থানে মসজিদ আর মন্দির নিয়ে কখনো কোনো দ্বন্দ্ব বা সাম্প্রদায়িক হানাহানি হয়নি। হিন্দু-মুসলিমরা যার যার ধর্ম পালন করে আসছেন।

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram