ঢাকা
প্রকাশিত : September 29, 2026
আপডেট: September 29, 2026
প্রকাশিত : September 29, 2026

নতুন করে গণভোট প্রসঙ্গে সরকারের কাছে তিন প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব চাইলেন জামায়াত নেতা আযাদ

গত ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও নতুন করে কেন গণভোটের প্রয়োজন হচ্ছে, সরকারের কাছে সে প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সরকারের কাছে তিনটি প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব চান তিনি।

প্রশ্নগুলো হলো—আগের গণভোটে জনগণের দেওয়া সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক অবস্থান কী, সেই গণরায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নতুন গণভোটের প্রয়োজন কেন হলো এবং নতুন গণভোটের সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি কী এবং আগের গণরায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী।

ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে নতুন করে গণভোটের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। কিন্তু এখানে সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্ন হলো, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছিল। তাহলে আবার নতুন করে গণভোটের প্রয়োজন কেন হলো?

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত গণভোটের প্রশ্নে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মত ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এখন নতুন করে একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণভোটের আগে সরকারের একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রয়োজন—আগের গণভোটের রায় কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?

আগের গণরায় কার্যকর ও বহাল থাকলে একই বিষয়ে আবার গণভোটের প্রয়োজন কেন, তা সরকারকে ব্যাখ্যা করতে হবে। আর আগের গণরায় পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হলে তার সাংবিধানিক ভিত্তি কী এবং কোন আইন বা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সেই রায় আবার জনগণের সামনে নেওয়া হচ্ছে, সেটিও স্পষ্ট করা দরকার।

এই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে গিয়ে শুধু ‘নতুন গণভোট’ বললেই বিষয়টির সাংবিধানিক বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হয় না বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন জামায়াতের এই নেতা। তার ভাষায়, গণভোট কোনো রাজনৈতিক দলের পছন্দ অনুযায়ী বারবার জনগণের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা নয়; এটি জনগণের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি বিশেষ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। জনগণ একবার কোনো বিষয়ে রায় দিলে সেই রায়ের মর্যাদা, কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন—এই তিনটি বিষয় আগে স্পষ্ট করতে হবে।

সরকার এসব প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিলে জনগণ তা বিচার করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আগের গণরায়ের সাংবিধানিক অবস্থান অস্পষ্ট রেখে নতুন গণভোটের প্রশ্ন তোলা হলে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে।

তিনি বলেন, জনগণের ভোট কোনো রাজনৈতিক দলের সুবিধা অনুযায়ী গ্রহণ, বর্জন বা পুনর্বিবেচনার বিষয় হতে পারে না। জনগণ যখন কথা বলে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেই কথার মর্যাদা দেওয়া।

জনগণ ভোট দেওয়ার পর রাষ্ট্র সেই রায়কে কতটা সম্মান করে, সেটি গণতন্ত্রের আসল পরীক্ষা উল্লেখ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আগে জনগণের রায়, তারপর তার সাংবিধানিক মর্যাদা ও বাস্তবায়ন।

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram