

আগে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন, তাদের বড় একটি অংশ এবার অন্য দলের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে দলটির প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোটারের পছন্দ এখন বিএনপি। এছাড়া তরুণ ভোটারদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে জামায়াতে ইসলামীর নাম। ‘আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক এক জরিপে উঠে এসেছে এমন আভাস।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) ও বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস) যৌথভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।
মূলত, ভোটারদের অংশগ্রহণ, পছন্দ-অপছন্দ এবং ভোটের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে— এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দেশব্যাপী সংস্থা দুটি মতামত জরিপ করে।
দেশের ৬৪ জেলার ১৮০টি সংসদীয় আসনের ১১ হাজারের বেশি ভোটারের ওপর দুই ধাপে এই জরিপ করা হয়। এতে উঠে এসেছে এই নির্বাচনে ভোট দিতে চান ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার। আগে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন, তাদের ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দিতে চান। একই শ্রেণির ভোটারের ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ জামায়াতকে, ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জাতীয় নাগরিক পার্টিকে এবং ১৩ শতাংশ অন্য দলকে ভোট দেয়ার কথা জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ। বলেন, জরিপে দেখা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে দুর্নীতির ইস্যু। জরিপে ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির ইস্যুটিকে গুরুত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন। ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে ধর্মকে গুরুত্বের সঙ্গে নেবেন বলে মত দিয়েছেন। এ ছাড়া ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেবেন বলে জরিপে এসেছে।
২০০৮ সালের পর যারা প্রথমবার ভোট দেবেন, তাদের ৩৭ শতাংশ জামায়াতকে, ২৭ শতাংশ বিএনপিকে এবং ১৭ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দেয়ার কথা জানিয়েছেন। জরিপ বিশ্লেষণে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের রেডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যেহেতু নির্বাচনে নেই, তাই তাদের ভোট এবার কোন দিকে যাবে, সেটি এখন গুরুত্বপূর্ণ। জরিপের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো এবারের নির্বাচনে অনেক মানুষ ভোট দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তবে ভোটের দিনের পরিস্থিতি কেমন হবে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যে ৮ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন; নিরাপত্তা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা ভালো না থাকলে তাদের অনেকে ভোটকেন্দ্রে না–ও যেতে পারেন। তখন এই ৮ শতাংশ হয়ে যেতে পারে ৮০ শতাংশ।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সিআরএফের সহসভাপতি ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহাবুল হক। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে, যেটা অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে বেশি।
ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে মানুষ আগের চেয়ে ধর্মকে কম গুরুত্ব দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘বেশি মানুষ কিন্তু এটা নিয়ে ভাবছে না; বরং তাঁরা দুর্নীতিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে—প্রার্থী বা প্রার্থীর দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে কি না।’
উল্লেখ্য, সারা দেশের ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের মধ্যে স্তরভিত্তিক দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

