ঢাকা
প্রকাশিত : October 18, 2026
আপডেট: October 18, 2026
প্রকাশিত : October 18, 2026

ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট; আটক ১২০০

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাজেট সংকট ও জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সে চলা বিক্ষোভ চরম সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশব্যাপী প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের বিক্ষোভে দফায় দফায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশজুড়ে অন্তত ১,২০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। সংঘাতের সময় অন্তত ১৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান ল্যাকরনু। খবর বিবিসির।

প্যারিসের ঐতিহাসিক প্লাস দে লা রিপাবলিকসহ রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে বিকেল পর্যন্ত বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার দিকে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ব্যারিকেড ভেঙে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়, দোকানপাট ভাঙচুর করে এবং বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ আগুনে ভস্মীভূত হয়। দাঙ্গা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের পাশাপাশি লাঠিচার্জ চালায়।

ঐতিহাসিক ভবনে অগ্নিসংযোগ ও গণলুটপাট

রাজধানী প্যারিসের বাইরে বিভিন্ন শহরে সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। লিমোজেস শহরের ঐতিহাসিক সিটি হল বা টাউন হলে বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দিলে ভবনটির ছাদ ধসে পড়ে। আঞ্চলিক প্রিফেকচার জানিয়েছে, ১৪৩ বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী ভবনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।

ভস্মীভূত হয়েছে লিওঁর পর্যটন কার্যালয়। লিওঁ শহরের মেয়র গ্রেগরি দুসে জানান, শহরের অত্যন্ত পরিচিত ঐতিহাসিক পর্যটন কার্যালয়টি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দমকল বাহিনীকে কাজ করতে বাধা দেয় উচ্ছৃঙ্খল জনতা। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সেন্ট-এতিয়েনে পুলিশের একটি গ্রেনেডের বিস্ফোরণে এক তরুণ বিক্ষোভকারীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন মেয়র রেজিস হুয়ানিকো।

এ ছাড়া প্যারিসের খাদ্য ও পোশাকের দোকান লুটপাটের পাশাপাশি লিল শহরে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের একটি শোরুম ভেঙে সব পণ্য লুট করা হয়েছে। গ্রেনোবল শহরে একটি পর্যটকবাহী ছোট ট্রেন ছিনতাই করে দাঙ্গা পুলিশের দিকে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় মুখোশধারীরা। মার্সেই, রেন ও তুলুজেও ব্যপক ভাঙচুর হয়েছে।

এদিকে, ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ ও ট্রেড ইউনিয়নের কর্মীরা। মূলত ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলো ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন শুরু করেছিল। তবে শনিবার তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ও ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের কর্মীরা, যার ফলে ছাত্র আন্দোলন দেশব্যাপী সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩ হাজার অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগের আশ্বাস দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনকারীরা।

অন্যদিকে, আগামী মে মাসে ক্ষমতা ছাড়ার প্রস্তুতিতে থাকা প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর জন্য এই বিক্ষোভ বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‍্যালির মারিন ল্য পেন এবং বামপন্থী দল ‘লা ফ্রান্স ইনসুমিজ’-এর জঁ-লুক মেলনশোঁর মধ্যে লড়াইয়ের আভাস মিলছে। বিক্ষোভের সহিংসতার পেছনে মেলনশোঁর উসকানি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ল্য পেন।

সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, যারা বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতর, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আক্রমণ করেছেন এবং সিটি হলে লুটপাট চালিয়েছেন, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram