ঢাকা
প্রকাশিত : September 6, 2026
আপডেট: September 6, 2026
প্রকাশিত : September 6, 2026

শাপলার লাল চাদরে সাতলা: শাপলার ফাঁকে নৌকা, নৌকার ফাঁকে গল্প

নুরুল ইসলাম আসাদ, উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। পূর্ব আকাশে সূর্যের মৃদু আভা। চারপাশে নীরবতা ভেঙে কেবল পাখির ডাক আর পানির মৃদু ঢেউয়ের শব্দ। সেই শান্ত জলরাশির বুকজুড়ে ফুটে আছে অসংখ্য লাল শাপলা। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, বিস্তীর্ণ বিলের পানির ওপর কেউ যেন বিছিয়ে দিয়েছে লাল ফুলের বিশাল চাদর।

কোথাও শাপলার ফাঁক গলে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে ছোট নৌকা। কোথাও পানকৌড়ি ডুব দিয়ে উঠে আসছে, আবার কোথাও সাদা বক পাখা মেলে উড়ে যাচ্ছে এক বিল থেকে অন্য বিলে। বাতাসে ভেসে আসছে গ্রামবাংলার নির্মলতার গন্ধ। পানির কলকল শব্দ, পাখির কলকাকলি, নৌকার ছলাৎ ছলাৎ আর চারপাশের সবুজ প্রকৃতি মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক মায়াবী আবহ।

এ যেন কোনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবি নয়, প্রকৃতি নিজ হাতে সাজিয়েছে এক অপূর্ব ক্যানভাস।

এই অপরূপ দৃশ্যের দেখা মেলে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা বিলে। বরিশাল শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের উত্তর সাতলা গ্রামের বিস্তীর্ণ জলাভূমি বর্ষা এলেই রূপ নেয় লাল শাপলার রাজ্যে। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হাজার হাজার লাল শাপলা পানির ওপর মাথা তুলে দাঁড়ায়। আর সেই সৌন্দর্য দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন প্রকৃতিপ্রেমী, আলোকচিত্রী ও ভ্রমণপিপাসুরা।

স্থানীয়দের কাছে এটি সাতলা বিল। তবে লাল শাপলার আধিক্যের কারণে পর্যটকদের কাছে জায়গাটি বেশি পরিচিত ‘সাতলার লাল শাপলার বিল’ নামে।

ভোর হলেই জেগে ওঠে শাপলার রাজ্য
সাতলার বিলের সৌন্দর্যের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ লাল শাপলা। বর্ষা মৌসুমে বিলের পানিতে শাপলা ফুটতে শুরু করলে কয়েক মাসের জন্য বদলে যায় পুরো এলাকার চেহারা। সাধারণত জুলাই থেকে শাপলা ফুটতে শুরু করে এবং মৌসুম অনুকূলে থাকলে নভেম্বর পর্যন্ত বিলের বিস্তীর্ণ জলরাশি রঙিন হয়ে থাকে।

ভোরের সময় এই সৌন্দর্য যেন আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। সূর্যের প্রথম আলো যখন শাপলার পাপড়িতে পড়ে, তখন লাল ফুলগুলোকে মনে হয় পানির ওপর জ্বলজ্বল করছে অসংখ্য ছোট প্রদীপ। একদিকে রক্তিম শাপলা, অন্যদিকে সবুজ পাতা, মাঝখানে সরু নৌকা আর দূরে গ্রামের ঘরবাড়ি। সব মিলিয়ে চোখের সামনে ফুটে ওঠে চিরচেনা অথচ বিস্ময় জাগানো গ্রামবাংলার এক অনন্য ছবি।

স্থানীয়রা জানান, যুগ যুগ ধরে এ বিলে শাপলা ফুটে আসছে। লাল শাপলার পাশাপাশি সাদা ও বেগুনি শাপলারও দেখা মেলে। তবে সংখ্যায় লাল শাপলাই বেশি।

শাপলার ফাঁকে নৌকা, নৌকার ফাঁকে গল্প
সাতলা বিলের সৌন্দর্য শুধু তীরে দাঁড়িয়ে দেখার নয়। বিলের ভেতরে প্রবেশ করলেই যেন প্রকৃতির আরও কাছাকাছি চলে যাওয়া যায়।

ছোট নৌকায় চড়ে শাপলার ফাঁক দিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে কখনো মনে হয় নৌকাটি ফুলের বাগানের মধ্য দিয়ে চলছে। দুই পাশে শাপলা, মাথার ওপর খোলা আকাশ আর চারদিকে পানি। মাঝে মাঝে নৌকার বৈঠার ছন্দ ভেঙে দেয় নীরবতা।

বিলের মাঝখানে থাকা বাড়িঘরের মানুষের চলাচলেরও অন্যতম প্রধান মাধ্যম নৌকা। ফলে পর্যটন ও স্থানীয় জীবনযাত্রা এখানে একই জলপথে মিশে গেছে।প্রকৃতির এই সহজ-সরল দৃশ্যই সাতলাকে অন্য অনেক পর্যটনকেন্দ্র থেকে আলাদা করেছে।

পর্যটকদের চোখে সাতলার সৌন্দর্য
বরিশাল শহর থেকে ঘুরতে আসা সাকিল বলেন, “সাতলার শাপলা বিলের সৌন্দর্য সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। প্রকৃতির নিজস্ব সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় গ্রামীণ পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।”

পার্শ্ববর্তী বাবুগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা নুর মোহাম্মদ বলেন, “আমি প্রতিবছর এই শাপলার বিলে আসি। খুব সকালে এলে শাপলার সৌন্দর্য সবচেয়ে ভালোভাবে উপভোগ করা যায়। চারপাশে লাল শাপলা আর নৌকায় ভেসে থাকার অনুভূতি অন্যরকম। এখানে এলে মনে হয় প্রকৃতির খুব কাছাকাছি চলে এসেছি।”

দর্শনার্থীদের অনেকেই জানান, সাতলার সৌন্দর্যের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর স্বাভাবিকতা। এখানে এখনো প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের দূরত্ব তৈরি হয়নি। কৃত্রিম সাজসজ্জার চেয়ে প্রকৃতির নিজস্ব সৌন্দর্যই এখানে প্রধান আকর্ষণ।

শুধু শাপলা নয়, আছে জীববৈচিত্র্যেরও মুগ্ধতা
সাতলা বিলকে শুধু শাপলার বিল হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত সৌন্দর্যের একটি অংশই দেখা হবে। বিস্তীর্ণ জলাভূমিকে ঘিরে রয়েছে বৈচিত্র্যময় জীবজগৎ।

সাদা বক, পানকৌড়ি, মাছরাঙা, ফিঙে, শালিক, দোয়েল, চড়ুই ও কাঠঠোকরাসহ বিভিন্ন দেশীয় পাখির বিচরণ দেখা যায় বিল ও আশপাশের এলাকায়। ভোরের নীরবতা ভেঙে পাখিদের ডাক যখন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন পুরো বিল যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।

পাখি পর্যবেক্ষণ ও প্রকৃতি ফটোগ্রাফির জন্যও জায়গাটি হতে পারে সম্ভাবনাময় একটি গন্তব্য। বিশেষ করে যারা শহরের কোলাহল থেকে কিছু সময়ের জন্য দূরে গিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য সাতলা হতে পারে দারুণ এক অভিজ্ঞতা।

বদলাচ্ছে সাতলার চেহারা
দীর্ঘদিন ধরে সাতলার শাপলা বিল পর্যটকদের আকৃষ্ট করলেও পর্যাপ্ত পর্যটন অবকাঠামোর অভাবে দর্শনার্থীদের নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। যাতায়াত, বসার জায়গা, নিরাপদ ঘাট, পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা এবং অন্যান্য অবকাঠামোর ঘাটতি ছিল দীর্ঘদিনের বাস্তবতা।

তবে সেই চিত্র ধীরে ধীরে বদলানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শাপলা বিলের প্রবেশমুখে নির্মাণ করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন গেট। পর্যটকদের জন্য ভিউ পয়েন্ট, ঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ এগিয়ে চলছে। এসব স্থাপনা সম্পন্ন হলে দর্শনার্থীরা আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সাতলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। স্থিরচিত্র ও ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে শাপলা বিলের সৌন্দর্য দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পর্যটন ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পর্যটন বাড়লে বদলাতে পারে স্থানীয় অর্থনীতি
সাতলার শাপলা বিলের সম্ভাবনা শুধু পর্যটকদের আনন্দ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিকল্পিত পর্যটন ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠলে এর অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে পুরো এলাকার ওপর।

প্রতি বছর শাপলা ফোটার মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসায় নৌকা, পরিবহন, খাবার, স্থানীয় পণ্য ও অন্যান্য সেবাকে ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ে।

পর্যটন অবকাঠামো আরও উন্নত হলে স্থানীয় তরুণদের জন্য নৌকা পরিচালনা, পর্যটনসেবা, খাবারের দোকান, ক্ষুদ্র ব্যবসা, স্থানীয় পণ্য বিক্রি এবং গাইড হিসেবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

অর্থাৎ একটি বিলের শাপলা শুধু পর্যটকের চোখে সৌন্দর্য নয়, স্থানীয় মানুষের জন্যও হয়ে উঠতে পারে জীবিকার নতুন সম্ভাবনা।

তবে উন্নয়নের সঙ্গে চাই প্রকৃতি রক্ষার পরিকল্পনাও
পর্যটন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাতলার জন্য নতুন কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ, প্লাস্টিক ও বর্জ্য, শাপলা নষ্ট করা, পাখির আবাসস্থলে বিরক্তি সৃষ্টি এবং অপরিকল্পিত স্থাপনা বিলের স্বাভাবিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই পর্যটন উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার দাবি সচেতন মহলের।

তাদের মতে, সাতলার সবচেয়ে বড় সম্পদ এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সেই সৌন্দর্য নষ্ট করে পর্যটন অবকাঠামো তৈরি করা হলে দীর্ঘমেয়াদে লাভের বদলে ক্ষতিই হবে।

পরিকল্পিত ঘাট, নির্দিষ্ট নৌপথ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত এলাকা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নীতি গ্রহণ করা গেলে সাতলা হতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম সফল গ্রামীণ পর্যটন মডেল।

নৌকা ভাড়া নিয়েও উঠছে প্রশ্ন
সাতলার শাপলার বিল ঘুরে দেখার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নৌভ্রমণ। তবে নৌকা ভাড়া নিয়ে মাঝে মাঝে দর্শনার্থীদের অভিযোগ রয়েছে।

পর্যটকদের অভিযোগ, এক ঘণ্টার জন্য নৌকা ভাড়া নিতে অনেক ক্ষেত্রে প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের জন্য এই ভাড়া বাড়তি চাপ তৈরি করে।

দর্শনার্থীদের দাবি, নৌকা ভাড়ার একটি নির্দিষ্ট ও যৌক্তিক হার নির্ধারণ করা হলে পর্যটকরা হয়রানি ও দর-কষাকষির ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন। একই সঙ্গে নৌকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্ধারিত ভাড়া প্রকাশ্যে টানিয়ে দেওয়ারও দাবি রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন পর্যটকরা।

কী বলছে উপজেলা প্রশাসন
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজা বলেন, “সাতলার শাপলা বিল উজিরপুরের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন সম্ভাবনার জায়গা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, প্রবেশদ্বার, ভিউ পয়েন্ট ও ঘাটলাসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের মাধ্যমে স্থানটিকে আরও আকর্ষণীয় ও পর্যটকবান্ধব করে তোলার চেষ্টা চলছে।

সাতলার সৌন্দর্য দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে পর্যটন সুবিধা বাড়ানো গেলে এটি শুধু উজিরপুর নয়, বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

তার মতে, পর্যটনের বিকাশ হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ারও সুযোগ সৃষ্টি হবে।

যেভাবে যাবেন সাতলার শাপলা বিলে
সাতলার শাপলা বিল দেখতে ঢাকা বা দেশের অন্য যেকোনো অঞ্চল থেকে প্রথমে বরিশাল শহরে আসা যায়। বরিশাল থেকে সড়কপথে উজিরপুর উপজেলার ইচলাদী বাসস্ট্যান্ডে যেতে হবে। ইচলাদী থেকে ইজিবাইক, মাহিন্দ্রা বা স্থানীয় পরিবহনে উত্তর সাতলার শাপলা বিলে যাওয়া যায়।

ঢাকা থেকে নৌপথে বরিশাল এসেও সড়কপথে উজিরপুরের সাতলায় যাওয়া সম্ভব।

শাপলা গ্রামের আশপাশে স্থানীয় খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও থাকার জন্য পর্যটকদের উজিরপুর সদর অথবা বরিশাল শহরের আবাসিক হোটেল ব্যবহার করতে হয়। ফলে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সাতলার ভবিষ্যৎ উন্নয়নে আবাসন, খাবার, টয়লেট ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করাও জরুরি।

একটি সকাল, এক টুকরো প্রকৃতি
শহরের ব্যস্ততা থেকে কয়েক ঘণ্টার জন্য দূরে গিয়ে যদি কেউ প্রকৃতির কাছে ফিরতে চান, সাতলার শাপলা বিল তাকে হতাশ করবে না।

ভোরের আলোয় লাল শাপলা, নৌকার মৃদু দুলুনি, পাখির ডাক, বিলের স্বচ্ছ বাতাস আর চারপাশের গ্রামীণ নিস্তব্ধতা মিলে এখানে তৈরি হয় এমন এক অভিজ্ঞতা, যা শুধু চোখে দেখা নয়, অনুভব করার।

সাতলার সৌন্দর্যের আসল শক্তি তার সরলতায়। এখানে বড় কোনো পাহাড় নেই, নেই কৃত্রিম বিনোদন পার্ক কিংবা ঝলমলে স্থাপনা। আছে জল, ফুল, পাখি, নৌকা আর মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সহাবস্থান। এই স্বাভাবিক সৌন্দর্যই সাতলার সবচেয়ে বড় পরিচয়।

সঠিক পরিকল্পনা, পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ নৌযান, যৌক্তিক নৌকা ভাড়া এবং প্রয়োজনীয় পর্যটনসেবা নিশ্চিত করা গেলে সাতলার লাল শাপলার বিল শুধু বরিশালের গর্ব নয়, হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের গ্রামীণ পর্যটনের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

প্রকৃতির লাল শাপলার চাদরে মোড়া এই বিল তখন শুধু মৌসুমি ভ্রমণস্থল থাকবে না, বরং সারা দেশের মানুষের কাছে পরিচিত হবে একটি অনন্য প্রাকৃতিক গন্তব্য হিসেবে।

আর তাই বর্ষার কোনো এক ভোরে, যখন সূর্যের আলো ধীরে ধীরে বিলের পানিতে পড়বে আর হাজারো লাল শাপলা একসঙ্গে মাথা তুলে দাঁড়াবে, তখন সাতলার বিলের দিকে তাকালে হয়তো মনে হবে, বাংলার প্রকৃতি এখনো তার সবচেয়ে সুন্দর ছবিগুলো নিজ হাতেই আঁকে।

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram