ঢাকা
প্রকাশিত : August 13, 2026
আপডেট: August 13, 2026
প্রকাশিত : August 13, 2026

মৃত্যুদণ্ডের আসামি নন, তবু কারাগারে সোনা মিয়া—আসল আসামি রমজান উধাও

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার: কক্সবাজারে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর পর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া ‘সোনা মিয়া’ এবং ২০২৬ সালের ২৩ জুন র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া সোনা মিয়া একই ব্যক্তি নন। ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির প্রকৃত নাম রমজান। তিনি অন্যের জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে ‘সোনা মিয়া’ পরিচয়ে মামলার আসামি হয়েছিলেন বলে পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ২০২০ সালে করা মামলার অভিযোগপত্রেই পুলিশ ‘সোনা মিয়া’র নাম-ঠিকানা সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেছিল। এরপরও ওই পরিচয়ে থাকা ব্যক্তি ২০২২ সালে জামিনে মুক্ত হন। পরে মামলার বিচার শেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘সোনা মিয়াসহ’ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। রায়ের পর গত ২৩ জুন র‍্যাব ‘সোনা মিয়া’কে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

কারাগারে যাওয়ার দুই-তিন দিন পর গ্রেপ্তার ব্যক্তি জেল সুপারের কাছে আবেদন করে জানান, তিনি এই মামলার আসামি নন। বিষয়টি আদালতকে জানানো হলে কক্সবাজার সদর থানার পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ২ জুলাই আদালতে দেওয়া পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি এবং ২০২৬ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি একই নন।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া ২ নম্বর আসামি নিজেকে ‘সোনা মিয়া’ পরিচয় দেন এবং তাঁর কাছে থাকা জন্মনিবন্ধন কার্ডের ভিত্তিতে ওই নাম ব্যবহার করা হয়। ওই ব্যক্তির প্রকৃত নাম রমজান। রমজান ও প্রকৃত সোনা মিয়া একই সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করতেন এবং পরে কক্সবাজার শহরের কুতুবদিয়াপাড়ায় একই ঘরে থাকতেন।

এদিকে ২০২০ ও ২০২৬ সালে গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তির ছবি, পারিবারিক তথ্য ও শারীরিক শনাক্তকরণ চিহ্নেও একাধিক অমিল পাওয়া গেছে। ২০২০ সালের নথিতে থাকা ব্যক্তির স্ত্রী, সন্তান ও শনাক্তকরণ চিহ্নের সঙ্গে ২০২৬ সালে গ্রেপ্তার সোনা মিয়ার তথ্যের মিল নেই।

ঘটনায় মামলার তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান অভিযোগ করেছেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রেই নাম-ঠিকানা সঠিক নয় বলে উল্লেখ করার পরও প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত না করায় তদন্তে গুরুতর গাফিলতি হয়েছে। তাঁর দাবি, এই সুযোগে প্রকৃত আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়; অন্যদিকে একই নামের একজন ব্যক্তি এখন সেই মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে কারাগারে রয়েছেন।

কারাগারে থাকা সোনা মিয়ার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস দাবি করেছেন, তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা ছিল না এবং তিনি কখনো কারাগারে যাননি। তাঁর স্বামী রামুর বাসিন্দা এবং রমজান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। ওই রমজানই ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে তাঁরা জানতেন। স্বামীকে ভুলভাবে ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে দাবি করে তিনি ন্যায়বিচার চান।

আদালতের নির্দেশে পুলিশের প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী।

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram