

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব আপনারা এবার দেখেছেন। আর এটি হয়েছে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের মারাত্মক ভুলের কারণে। ওনারা ভুল করে হোক অথবা অদুরদর্শিতার কারণে হোক ২০২৪-২৫ সালে যে হামের টিকা দেয়ার কথা ছিল, তা’দিতে তাঁরা ব্যর্থ হয়েছিলেন। আর তার কারণে আমাদেরকে হামের প্রাদুর্ভাব দেখতে হয়েছে। আমাদেরকে ৬ শতাধিক শিশুর মৃত্যু দেখতে হয়েছে।
রোববার সারা দেশের ন্যায় গোপালগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার আরো বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং অপুষ্টি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো শিশুই যেন এ সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। সরকারের লক্ষ্য প্রতিটি শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। তাই সবাইকে নিজ নিজ এলাকার কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
দেশের অনেক ইউনিয়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত সেবা পাওয়া যায়না উল্লেখ করে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট তৈরি করা হবে। যাতে করে বাচ্চা প্রসবের জন্য মায়েদের দূরে কোথাও যেতে না হয় এবং সেখানে বসেই সঠিক চিকিৎসা পান। এসময় তিনি গোপালগঞ্জকে স্বাস্থ্য হাব হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন। তিনি বলেন, গোপালগঞ্জে আধুনিক কার্ডিয়াক ও আধুনিক ডায়ালেসিস সেন্টার গড়ে তোলা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. গোলাম মোর্শেদ মোল্লা, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা.মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, উপ-পরিচালক ডা. নিয়াজ মাহমুদ, গোপালগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের পরিচালক ডা. সৈয়দ শাহীন ইকবাল, সিভিল-সার্জন ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রাফিকুজ্জামান, গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজের প্রকল্প পরিচালক ডা. ইসতিয়াক আহমেদ, গোপালগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ফারিহা তানজিমসহ জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানগন দলীয় নেতাকর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এ বছর জেলায় ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৬০ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য জেলার ৭টি স্থায়ী এবং ১ হাজার ৬৭৬টি অস্থায়ী কেন্দ্রে ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে।
পরে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। মেডিকেল কলেজের নানা সমস্যার কথা জেনে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ চালাতে কিকি দরকার সেসকল সমস্যার বর্ণনা দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের কাছে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেন।

