

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও কূটনৈতিক সংকট নিরসনে কোনো দৃশ্যমান ব্রেকথ্রু কিংবা অগ্রগতি ছাড়াই চীন সফর শেষ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সফরে বেইজিং থেকে বড় ধরনের কোন সমঝোতা বা অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি।
ট্রাম্প জানান, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর পক্ষে এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিরোধিতা করেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব অবস্থান চীনের আগের বক্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি।
ফ্লাইটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের দেওয়া সাম্প্রতিক প্রস্তাবে তিনি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন, তাই প্রস্তাবগুলো বাতিল করেন। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ইরানের বিরুদ্ধে তার সামরিক অভিযান 'চলমান থাকবে'।
হোয়াইট হাউসের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে ইরান ইস্যুতে মতভেদ রয়েছে। এক পক্ষ আরও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার পক্ষে। অন্যদিকে, আরেক পক্ষ কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রভাব ও রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও গভীর হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, চীন সফর থেকে ইরান ইস্যুতে কোনো সফল অগ্রগতি ছাড়াই দেশে ফিরেছেন ট্রাম্প—এখন সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের প্রশ্ন। ইরান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?

