ঢাকা
১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সন্ধ্যা ৭:৩০
প্রকাশিত : মে ১৫, ২০২৬
আপডেট: মে ১৫, ২০২৬
প্রকাশিত : মে ১৫, ২০২৬

সিঁড়ি ছাড়াই বানানো হয়েছে স্কুলের দোতলা ভবন, ৪ বছর ধরে অব্যবহৃত

এম মনিরুজ্জামান, রাজরাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে সরকারি অর্থে নির্মিত হয়েছে এমন এক দোতলা স্কুল ভবন, যেখানে নেই দ্বিতীয় তলায় ওঠার কোনো সিঁড়ি। প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটির দ্বিতীয় তলা তাই ব্যবহার করা যাচ্ছে না গত চার বছর ধরে।

তালতলা সপ্তপল্লী উচ্চবিদ্যালয়ের উন্নয়নে ধাপে ধাপে বিভিন্ন সময়ে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জেলা পরিষদ থেকে ৭ লাখ টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ১০ লাখ, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাঁচ লাখ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে আরও ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু ভবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সিঁড়ি নির্মাণ না হওয়ায় পুরো প্রকল্প এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নিচতলার দুটি কক্ষে বাঁশ ও চাটাইয়ের বেড়া দিয়ে অস্থায়ীভাবে চারটি শ্রেণিকক্ষ তৈরি করে পাঠদান চলছে। অন্যদিকে দোতলার দুটি কক্ষ ও ছাদ নির্মাণ শেষ হলেও সিঁড়ি না থাকায় সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একাধিক বরাদ্দের অর্থ খরচ হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে ছিল চরম পরিকল্পনাহীনতা ও তদারকির ঘাটতি। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের গাফিলতির কারণেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এখন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ বন্ধু রায় বলেন, বিভিন্ন সময়ে পাওয়া বরাদ্দ দিয়ে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তু সিঁড়ি না থাকায় সেটি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। একাধিকবার আবেদন করেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।

সহকারী শিক্ষক তুষার কান্তি রায় বলেন, সিঁড়ি থাকলে দোতলায় এখনই ক্লাস নেওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু চার বছর ধরে পুরো তলাটি অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ বলে, একটি কক্ষের মধ্যে বাঁশের বেড়া দিয়ে গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হয়। চিৎকার, চেঁচামেচিতে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলা পরিষদের ঠিকাদারের ভুলের মাশুল এখন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দিতে হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শুধু সিঁড়ি হলেই হবে না, এখানে আরও অনেক কাজ বাকি আছে। প্লাস্টার, জানালা, দরজা লাগানোসহ বেশ কিছু কাজ বাকি। তবে সেই বরাদ্দ আসতে দেরি হলে আমরা আপাতত সিঁড়ি বানানোর কাজটি উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে করব।’

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram