

খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভুলভাবে ভর্তি এবং দীর্ঘসময় চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগে হুমায়ুন কবির (৪২) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হুমায়ুন কবিরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পরিবর্তে কর্তব্যরত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মাহফুজুর রহমান সিনিয়র চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই তাকে পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
নিহত হুমায়ুন কবির উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। তিনি পেশায় ছিলেন একজন গরু ব্যবসায়ী ও গরুর মাংস বিক্রতা।
স্বজনদের অভিযোগ, পুরুষ ওয়ার্ডে নেওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোনো চিকিৎসক বা নার্স রোগীর খোঁজ নেননি। এ সময় রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়নি। একপর্যায়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়।
নিহতের ছোট ভাই হারুন-অর-রশিদ বলেন, “রোগীর অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন ছিল। তারপরও সিনিয়র ডাক্তারের সঙ্গে কথা না বলে তাকে ভর্তি করা হয়। ইমারজেন্সি থেকে ওয়ার্ডে নেওয়ার পর এক ঘণ্টার বেশি সময় কেউ চিকিৎসা দিতে আসেনি।”
অভিযোগের বিষয়ে উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মাহফুজুর রহমান বলেন, “সবকিছু ঠিক মনে হওয়ায় আমি রোগীকে ভর্তি নিয়েছি। তবে ওয়ার্ডে নেওয়ার পর চিকিৎসা কীভাবে হয়েছে, তা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন।”
জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসার ডা. প্রিয়ম তালুকদার বলেন, “এই রোগীকে এখানে ভর্তি করার সুযোগ ছিল না। সরাসরি উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করাই সঠিক সিদ্ধান্ত হতো। কিন্তু আমাকে বিষয়টি জানানো হয়নি। জানানো হলে চিকিৎসা দেওয়া যেত। ঘটনাটি আমাকে মর্মাহত করেছে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, “হেব্বি চেস্ট পেইন রোগীদেরকে এই হাসপাতালে ভর্তি করার কোনো সুযোগ নেই। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ভুলবশত রোগী ভর্তি করেছেন এবং বিষয়টি আমাকে বা অন্য কোনো মেডিকেল অফিসারকে জানাননি। রোগীর স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাছেত সরদার জানান, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

